cosmetics-ad

মাথাপিছু ৪০ হাজার ডলারের জিডিপি ক্লাবে যোগ দিতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রয়োজন বিনিয়োগ ও বিনিয়ন্ত্রণ

সিউল, ২০ জানুয়ারি ২০১৪:

মাথাপিছু ৪০ হাজার ডলারের জিডিপি ক্লাবে যোগ দিতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রয়োজন ব্যবসায়ে আরো বিনিয়োগ ও বিনিয়ন্ত্রণ। দেশটির বড় কনগ্লোমারেটদের জন্য প্রণীত এক সুপারিশ প্রতিবেদনে এ মন্তব্য করা হয়। খবর ইউনহাপ নিউজের।

গতকাল রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) উপাত্ত অনুসারে ফেডারেশন অব কোরিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ (এফকেআই) বলে, মাথাপিছু জিডিপি ৪০ হাজার ডলারের বেশি এমন ২২টি দেশের ইতিহাস থেকে দেখা যায়, মাথাপিছু ২০ হাজার ডলারের জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা পেরিয়ে যাওয়ার পর তাদের প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান বর্তমান দক্ষিণ কোরিয়ার চেয়ে বেশি ছিল। সে সময় তাদের জিডিপিতে সেবা খাতের অবদানও বেশি ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার চেয়ে। ২০০৭ সালেই ২০ হাজার ডলারের মাইলফলকটি অতিক্রম করে দক্ষিণ কোরিয়া।

images

শিল্প সক্ষমতায় এগিয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্সের পাশাপাশি সেবানির্ভর নগররাষ্ট্র সিঙ্গাপুর বা প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ ছোট দেশ কাতার, কুয়েত ও ব্রুনেই রয়েছে ৪০ হাজার ডলার মাথাপিছু জিডিপি অর্জনকারীদের দলে। এফকেআই বলে, এ দেশগুলোর মাথাপিছু আয় দ্বিগুণ হওয়ার পর দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি গড়ে ৩ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়ায়। উল্লেখ্য, ২০০৭-২০১২ সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৯ শতাংশ।

২০১৩ সালে দেশটির মাথাপিছু আয় ছিল ২৩ হাজার ৮৩৮ ডলার। আইএমএফের সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে ২০১৪ সালে তা ২৫ হাজার ১৮৯ ডলারে উন্নীত হবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। ২০১৭ সালের মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার মাথাপিছু জিডিপি ৩০ হাজার ডলার ছাড়াবে বলে পূর্বাভাস তাদের। অবশ্য এ ক্ষেত্রে তারা আগামী তিন বছর দেশটিতে গড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে ধরে নিয়েছে।

২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার ডলারের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে গড়ে ১৩ দশমিক ৪ বছর সময় নিয়েছে এরই মধ্যে সফল হওয়া দেশগুলো। ৩০ হাজার ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করতে লেগেছিল গড়ে ৮ বছর করে। আইএমএফের হিসাব ঠিক হলে ৩০ হাজারে উন্নীত হতে দক্ষিণ কোরিয়ার লাগবে ১০ বছর। এফকেআই বলছে, মাথাপিছু জিডিপি ৪০ হাজার ডলারে উন্নীত করতে হলে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতিতে ‘প্রাণসঞ্চার’ করতেই হবে। বিনিয়োগ, উত্পাদন, রফতানি, ভোগ সবই দীর্ঘমেয়াদে বাড়িয়ে জিডিপির টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে।

মাথাপিছু আয়ের বিচারে শীর্ষ ২২টি দেশে ১৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সীদের মধ্যে কর্মসংস্থানের হার ৬৯ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০১২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় তা ৬৩ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এগিয়ে থাকা দেশগুলোর জিডিপিতে সেবা খাতের অবদান গড়ে ৬৪ দশমিক ৭ শতাংশ। দক্ষিণ কোরিয়ায় তা ৫৯ দশমিক ২ শতাংশ। কেএফআইয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান বা স্যাং-কিউন বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পাক কুন হির ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, ৭০ শতাংশ কর্মসংস্থান ও সেবা খাতের প্রসারের পরিকল্পনা কোরিয়াকে সঠিক লক্ষ্যেই ধাবিত করছে।’

তার পরামর্শ ‘উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছতে হলে দক্ষিণ কোরিয়াকে অবশ্যই বিনিয়োগ উত্সাহিত করার প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও বিধিনিষেধ তুলে নিয়ে হবে, যা ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে সময়মতো বিনিয়োগে নিরুত্সাহিত করে।’

এশিয়ার অন্যান্য দেশের চেয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সরকারি নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলক কম থাকলেও দক্ষিণ কোরীয় কনগ্লোমারেটরা তা অনেক শিথিল করার পক্ষে। সূত্রঃ বণিকবার্তা।