sentbe-top

অবশেষে লাশের দেখা পেল পরিবার

oman-sadekদীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেছে ওমানপ্রবাসী সাদেক সরকারের মরদেহ। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তার মরদেহ দেশে পাঠাতে চরম বিপাকে পড়তে হয়।

১৫ নভেম্বর প্রতিদিনের মতো সকালে কাজে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন সাদেক সরকার। আশিক খান ও স্থানীয় কয়েকজন বাংলাদেশি তাকে স্থানীয় লাইফ লাইন হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, লাশটি ২০ দিন হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছিল। মৃত সাদেকের ওমানে কোনো আত্মীয়-স্বজন না থাকায় এবং বসবাসের কোনো বৈধ কাগজপত্র না থাকায় মরদেহটি দেশে পাঠানো অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় বাইজিদ আল-হাসানের সহযোগিতায় প্রিয়জনের মুখটি শেষ বারের মতো দেখতে দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়।

দূতাবাসের সহযোগিতায় মরদেহটি দেশে পাঠানোর সব কাগজপত্র তৈরি করা হয়। কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও শুরু হয় ফ্লাইট বিড়ম্বনা, বাংলাদেশ বিমান মরদেহ নেয়া বন্ধ করে দেওয়ায় চরম বিপাকে পড়েন ওমান প্রবাসীরা।

প্রতিদিন প্রায় ৩ থেকে ৪টা মরদেহ ওমান থেকে দেশে আসে, বিগত দিনে বাংলাদেশ বিমান ও রিজেন্ট এয়ারে মরদেহগুলো ফ্রিতে দেশে পাঠানো যেত। কিন্তু হঠাৎ করে বিমানে মরদেহ নেয়া বন্ধ করে দেওয়ায় হতাশ বাংলাদেশ দূতাবাস ওমান। ইতোমধ্যে বিমানের এমন সিদ্ধান্তের কারণে কান্ট্রি ম্যানেজার ইরতেজা কামাল চৌধুরীকে দূতাবাসে ডেকে জরুরি মিটিং করেছে রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সরওয়ার।

বিমানের কান্ট্রি ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন ‘বাংলাদেশ থেকে এখন বড় বিমানের ফ্লাইট বন্ধ হওয়ার কারণে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেক্ষেত্রে এই সমস্যা সমাধান হতে আগামী ফেব্রুয়ারি নাগাদ সময় লাগবে’

এদিকে এই বিষয়ে দূতাবাসে যোগাযোগ করলে দূতাবাসের লেবার কাউন্সিলর সুজাউল হক তাৎক্ষণিক রিজেন্ট এয়ারের কান্ট্রি ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। রিজেন্ট এয়ারের পক্ষ থেকে জানানো হয় তারা আগামী সপ্তাহ থেকে মরদেহ নেয়া শুরু করবে, এবং সেইসঙ্গে বিমানে মরদেহ পাঠানোর ব্যবস্থা নিতে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে আশ্বাস দেন।

দেশের কোনো বিমানের টিকিট না পাওয়াতে সম্পূর্ণ খরচ দিয়ে সাদেক সরকারের মরদেহটি দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়, এমতাবস্থায় আর্থিক সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ দূতাবাস, চট্টগ্রাম সমিতি ওমান, বরকত আলী, আবুল হাসান ও নাসির হোসেন, বাংলাদেশি টাকায় ১ লাখ টাকা ব্যয়ের মাধ্যমে অবশেষে সাদেক সরকারের মরদেহটি আজ দেশে ফিরছে।

এমন করুণ অবস্থা থেকে বাঁচানোরা জন্য বিশিষ্টজনেরা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন- ফ্রি ভিসায় বিদেশ না যাওয়া, বিদেশ এসে অবৈধ না হওয়া, বৈধ কাগজপত্র সবসময় সঙ্গে রাখা, অবৈধ কাজ থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা, প্রবাসীদের ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থা করা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ না নেয়া, পরিবারের পক্ষ থেকে টাকার জন্য বেশি চাপ প্রয়োগ না করা ইত্যাদি।

বাইজিদ আল-হাসান, ওমান থেকে

sentbe-top