cosmetics-ad

পুনর্মিলনের পর প্রিয়জনের কাছ থেকে বিদায় নিলেন দুই কোরিয়ার স্বজনরা

সিউল, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪:

কোরীয় যুদ্ধে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া দুই কোরিয়ার স্বজনরা ৬০ বছর পর প্রিয়জনদের সাথে পুনরায় মিলিত হবার পর শনিবার বিদায় নিয়েছেন। প্রায় নিশ্চিত যে তারা আর কখনোই মিলিত হতে পারবেন না।
পুনর্মিলনের তৃতীয় ও শেষ দিনে বিদায় নেয়ার আগে ৮০ জন বয়সী দক্ষিণ কোরীয়কে উত্তর কোরিয়ায় তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে এক ঘন্টার জন্য দেখা করার সুযোগ দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পরিবারের প্রথম ব্যাচের এ সদস্যরা ছয় দফায় মোট ১১ ঘন্টা পরস্পরের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। এ সময় তারা সকলের সঙ্গে খাবার খাওয়া ও গণমাধ্যমের টিভি ক্যামেরা ছাড়া একান্তে সাক্ষাত করার সুযোগ পান।

PYH2014022105320031500_P2

দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক কিম ইয়োং-জা মায়ের ছবি নিয়ে উত্তর কোরিয়ায় বাস করা তার বোনের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। পুনর্মিলনের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ৯০ বছর বয়সে তাদের মা মারা যান।
মায়ের ছবি চোখের কাছে ধরে রেখে তার বোন বলেন, ‘মা, আমি তোমার মেয়ে ইয়াং-সিল, যাকে তুমি দেখতে চেয়েছিলে।’

কিম দং-বিন (৮০) উত্তর কোরিয়ায় বাস করা তার বোন ও এক ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি তোমাদের দেখতে পেয়ে খুবই আনন্দিত। ভাল থাক। আবার তোমাদের সঙ্গে দেখা হবে।’
তিনি তাদের শীতকালীন কোট, একজোড়া বুট জুতা ও হাত ঘড়ি উপহার দেন।

অপর দুই দক্ষিণ কোরীয় স্বাস্থ্যগত কারণে তাদের পুনর্মিলন সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়ি ফিরে যান।
এদের একজন হচ্ছেন ৯১ বছর বয়সী কিম সাং-কিয়োং। শুক্রবার হুইল চেয়ারে করে অ্যাম্বুলেন্সে ওঠার আগে দক্ষিণ কোরিয়ার বাসিন্দা তার ছেলে-মেয়েদের বলেন, ‘ভালভাবে বেঁচে থাকো।’
তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় জন্ম গ্রহণকারী তার অপর ছেলেকে বলেন, ‘আমার এখন আর কোন আক্ষেপ নেই। দয়া করে আমার দেহাবশেষ উত্তর কোরিয়ার পার্বত্য এলাকায় আমার নিজ শহরে সমাহিত করো।’

১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরীয় যুদ্ধে লাখ লাখ লোক বাস্তুচ্যুত হয়। যুদ্ধে ভাই-বোন, মা-বাবা ও স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এ সময় সদস্যদের মধ্যে সরাসরি চিঠি বিনিময় বা টেলিফোনে কথা বলাও নিষিদ্ধ।

৮১ বছর বয়সী কিন দং-বিন জানান, তার সঙ্গে দেখা করতে আসা তার দুই বোন দক্ষিণ কোরিয়ায় অব্যাহত মার্কিন সেনা উপস্থিতির সমালোচনা করেন।
এখনো দুই কোরিয়ায় বসবাসরত অনেকে তাদের বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার জন্য পথ চেয়ে আছেন।