রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক প্রবাস ১৬ মে ২০১৪, ১:১২ অপরাহ্ন
শেয়ার

দায়িত্বে ফিরছেন গ্রীসে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত গোলাম মোহাম্মদ


মাঈনুল ইসলাম নাসিম, ১৬ মে ২০১৪:

স্বপদে বহাল থেকে অবশেষে গ্রীসে ফিরছেন রাষ্ট্রদূত গোলাম মোহাম্মদ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শেষ মুহুর্তের বিচক্ষণতা ও দূরদর্শীতায় অবসান হলো সব জল্পনা-কল্পনার। দায়িত্বে পুনরায় যোগ দিতে শুক্রবার রাতে গ্রীসের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন পূর্ণ সচিব পদমর্যাদার এই সিনিয়র কূটনীতিবিদ। ১৭ মে শনিবার গ্রীক সময় বেলা ২টায় তিনি এথেন্স পৌঁছবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে দালাল সিন্ডিকেটের ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে বীরের বেশে ফিরছেন রাষ্ট্রদূত গোলাম মোহাম্মদ, এমন সংবাদে এথেন্সের বাংলাদেশ কমিউনিটিতে উৎসবমূখর পরিবেশ বিরাজ করছে। তাঁকে নতুন করে বরণ করে নিতে বিভিন্ন সংগঠনের চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। বৃহষ্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে এই প্রতিবেদকের সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে রাষ্ট্রদূত গোলাম মোহাম্মদ সরকারের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতার কথা জানান।

image - Ambassador Golam Mohammad finally return in Greece - EXCLUSIVE - 02বহুমুখী চক্রান্তের যবনিকাপাত ঘটার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রদূত গোলাম মোহাম্মদের এথেন্স ফিরে আসা সুনিশ্চিত হওয়ায় বাংলাদেশ সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ইউরোপের ৩০ টি দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ এসোসিয়েশন (আয়েবা)’র প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার ড. জয়নুল আবেদিন, যিনি একাধারে বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রীসেরও সভাপতি। এই প্রতিবেদককে তিনি জানান, ‘‘বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোহাম্মদ সসম্মানে এথেন্সে ফিরে আসছেন এটা মূলতঃ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় এবং আমাদের কমিউনিটির জন্য এক গৌরবজনক অধ্যায়।’’ বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রীসের সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম হাওলাদার সহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দও বাংলাদেশ সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ঐতিহাসিক এই মাহেন্দ্রক্ষণে। নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘‘সময় এসেছে আজ দালাল সিন্ডিকেটের মুখোশ উন্মোচনের’’।

উল্লেখ করা যেতে পারে, ২০০৯ সালে গ্রীসে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিষ্ঠার পর দায়িত্বরত অফিসারদের প্রত্যক্ষ যোগসাজশে এথেন্সের চিহ্নিত দালাল চক্র পাসপোর্ট পিসি কেনাবেচা ও সার্টিফিকেটের লক্ষ লক্ষ ইউরোর রমরমা বাণিজ্যে খোদ দূতাবাসকেই পরিণত করে লুটপাটের স্বর্গরাজ্যে। কিন্ত ২০১৩ সালের গোড়ার দিকে দায়িত্ব নিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অবিচল থেকে দূতাবাসকে কলংকমুক্ত করেন রাষ্ট্রদূত গোলাম মোহাম্মদ। পাসপোর্ট বাণিজ্য বন্ধ হওয়ায় দালাল সিন্ডিকেট ক্ষিপ্ত হয়ে গভীর ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করতে সক্ষম হয় গ্রীসের সীমানা পেরিয়ে সুদূর সেগুনবাগিচায়।