
জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক কান্ট্রি অফিস নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যেই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন স্পষ্ট করে বলেছেন, এ অফিস বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে না, বরং দেশের পক্ষেই কাজ করবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তৌহিদ হোসেন বলেন, এটা যেন মনে না হয় যে, জাতিসংঘ প্রস্তাব দিয়েছে আর আমরা তড়িঘড়ি করে অনুমোদন দিয়ে দিয়েছি। দীর্ঘ আলোচনা, যাচাই-বাছাই ও সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যেন এটি আমাদের কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না করে।
চীনের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সংক্রান্ত প্রশ্নে তৌহিদ হোসেন জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের উৎসভাগে বাঁধ নির্মাণ প্রসঙ্গে চীন আশ্বস্ত করেছে—সেখানে পানি প্রত্যাহারের কোনো প্রকল্প নেই। বরং একটি নতুন প্রযুক্তিতে ধাপে ধাপে পানির প্রবাহ ব্যবহার করা হবে। তিনি বলেন, “চীনের রাষ্ট্রদূত আমাদের স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নয় এবং বাংলাদেশে পানির প্রবাহে কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলবে না।”
তবে উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের দায়িত্ব হবে নজর রাখা, যেন এসব অবকাঠামোর কারণে বাংলাদেশ ক্ষতির মুখে না পড়ে। যদি ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে, সেটি যেন খুব সীমিত থাকে। এখানে ভারতেরও স্বার্থ জড়িত, তারাও বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।”
উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় চিকিৎসা সহায়তা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “সিঙ্গাপুর, ভারত ও চীন আমাদের সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছে। অন্য কোনো দেশ থেকে প্রস্তাব পাইনি এবং বর্তমানে নতুন করে সহায়তার প্রয়োজনও নেই। বার্ন চিকিৎসায় আমরা যথেষ্ট সহায়তা পেয়েছি।”
ভারতীয় চিকিৎসক দলের আগমনকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ চায় ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হোক। চিকিৎসা সহায়তা সেই বন্ধুত্বেরই একটি বহিঃপ্রকাশ।”
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা একটি অপ্রকাশযোগ্য চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “এটা যারা দরকষাকষি করেছে, তাদের কাছে প্রশ্নটা করলে ভালো হয়। এখনো আলোচনা চলছে, মাঝপথে কিছু বলা সঠিক হবে না।”
আর এ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অন্ধকারে আছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “অন্ধকারে নয়। আপনারা একটু ধৈর্য ধরুন, সব জানতে পারবেন।”
এদিনের ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সংবেদনশীল সব বিষয়েই সতর্ক অবস্থান প্রকাশ করেন। সরকারের পক্ষ থেকে বারবারই বলা হচ্ছে—জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও চুক্তি পরিচালিত হচ্ছে।




































