বুধবার । মার্চ ২৫, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

ভুয়া নথি দিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ টিউলিপের


Tulip Siddique

ব্রিটিশ সংসদ সদস্য ও লেবার পার্টির সাবেক মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, তাকে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত দেখাতে ভুয়া পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করা হয়েছে।

সম্প্রতি ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০১ সালে টিউলিপ সিদ্দিক নাকি একটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট এবং ২০১১ সালে জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণ করেছিলেন। এমনকি ঢাকার আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে নবায়নের জন্য আবেদনও করেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

কিন্তু টিউলিপ এসব তথ্য অস্বীকার করেছেন। তার মুখপাত্র জানান, গত এক বছর ধরে বাংলাদেশ থেকে পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। “এখন জাল নথি বানিয়ে তাকে রাজনৈতিকভাবে আঘাত করা হচ্ছে,” মন্তব্য করেন তিনি।

টিউলিপের ঘনিষ্ঠরা জানান, নথিগুলোতে অসঙ্গতি রয়েছে। পরিচয়পত্রে যে ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি তার খালা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন। অথচ টিউলিপ কখনো ঢাকায় বসবাস করেননি। এছাড়া, উল্লেখিত পরিচয়পত্রটি পুরোনো ধরনের, বর্তমানে ব্যবহৃত স্মার্ট কার্ড নয়।

তার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শৈশবে টিউলিপ একবার বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করেছিলেন, তবে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর আর কখনো বাংলাদেশি পাসপোর্ট কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণ করেননি।

এরই মধ্যে বাংলাদেশে একটি দুর্নীতির মামলায় টিউলিপ সিদ্দিকের নাম যুক্ত হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি তার খালা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রভাব ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের নামে জমি বরাদ্দ নিয়েছেন। তবে টিউলিপ এই মামলা “ভিত্তিহীন ও সাজানো” বলে দাবি করেছেন। তার বক্তব্য, “এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। আমার বিরুদ্ধে সব অভিযোগই মিথ্যা।”

টিউলিপকে ঘিরে নাগরিকত্ব ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০১৫ সালে তিনি স্বামীসহ ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বাংলাদেশকে “আমাদের দেশ” বলে অভিহিত করেছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, “আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেত্রী— সবাই নারী। এটা আমাদের জন্য গর্বের।” কিন্তু দুই বছর পর, ২০১৭ সালে, যুক্তরাজ্যের এক সাংবাদিক তার জাতীয়তা নিয়ে প্রশ্ন করলে ক্ষুব্ধ হয়ে জবাব দেন, “আমি একজন ব্রিটিশ এমপি। আমাকে বাংলাদেশি বলবেন না, আমি বাংলাদেশি নই।”

এই দুটি বক্তব্য তার নাগরিক পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি ও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

তার আইনজীবীরা অবশ্য একে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন। তাদের দাবি, টিউলিপ কখনো প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বাংলাদেশি কোনো পরিচয়পত্র ব্যবহার করেননি। “বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ রাজনৈতিক স্বার্থে তার বিরুদ্ধে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করেছে,” আইনজীবীদের বক্তব্য।

টিউলিপ সিদ্দিক বর্তমানে উত্তর লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড ও কিলবার্ন আসনের এমপি। তিনি ব্রিটিশ লেবার পার্টির একজন প্রভাবশালী নেতা এবং সংসদে অর্থনৈতিক নীতি ও সামাজিক বিষয়ক আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।

তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ থেকে আসা সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব বিতর্ক টিউলিপের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ছাড়াও বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।