বৃহস্পতিবার । মার্চ ৫, ২০২৬
সেতু ইসরাত লাইফস্টাইল ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ৪:১৬ অপরাহ্ন
শেয়ার

আপনি কি অজান্তেই ভিটামিন ডি এর ঘাটতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন?


Vitamin D

সুস্থ থাকার জন্য ভিটামিন ডি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

ভিটামিন ডি আমাদের শরীরের জন্য এক অপরিহার্য উপাদান হলেও আধুনিক জীবনযাত্রার কারণে বর্তমানে অনেকেই এই পুষ্টির ঘাটতিতে ভুগছেন। শরীরে এই ভিটামিনের অভাব হলে তা কেবল হাড়ের ক্ষতি করে না বরং পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকেই বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে। 

সুস্থ থাকার জন্য ভিটামিন ডি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর অভাবে অনেক সময় শরীরে নিঃশব্দে বাসা বাঁধে নানান ব্যাধি। 

ক্লান্তি: ভিটামিন ডি-এর অভাবজনিত লক্ষণের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ হলো সারাক্ষণ প্রচণ্ড ক্লান্তি অনুভব করা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরেও শরীরে সতেজতা না ফেরা। এছাড়া হাড় ও পেশিতে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা হওয়া এবং পিঠের নিচের অংশে একটানা অস্বস্তি হওয়া এই ভিটামিনের ঘাটতির বড় সংকেত হতে পারে। অকারণে মেজাজ খিটখিটে হওয়া বা বিষণ্নতায় ভোগার পেছনেও এই পুষ্টির অভাব দায়ি থাকে।

ক্ষত শুকাতে দেরি: অনেক সময় দেখা যায় শরীরের কাটা, আঁচড় বা কোনো ক্ষত শুকাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগছে, যা ভিটামিন ডি-এর স্বল্পতার কারণে হতে পারে। 

চুল পড়া: চুল পড়া কেবল চাপ বা জেনেটিক কারণের সঙ্গেই নয়, পুষ্টির ঘাটতির সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে। ভিটামিন ডি সুস্থ চুলের ফলিকল বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর অভাবে চুল পাতলা, ভেঙে যেতে এবং অতিরিক্ত ঝরে পড়তে পারে।

শুষ্ক ত্বক: ভিটামিন ডি ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং এর প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতাকে শক্তিশালী করে। ভিটামিন ডি-এর অভাব ত্বকের আর্দ্রতা হারাতে পারে, যার ফলে ত্বক শুষ্ক, চুলকানি ও খসখসে হয়ে যেতে পারে। এই সমস্যা আরো খারাপ হতে পারে, বিশেষ করে শীতকালে, যখন সূর্যের আলো সীমিত থাকে। ত্বকের কোষগুলোকে পুনরুজ্জীবিত এবং মেরামত করতে ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অভাবের কারণে ত্বক তার প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা হারাতে পারে এবং নিস্তেজ ও প্রাণহীন দেখাতে পারে।

যেহেতু ভিটামিন ডি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখে তাই এর অভাবে বারবার সর্দি-কাশি বা ইনফেকশনে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। 

করনীয়- শরীরে ভিটামিন ডি-এর এই অভাব দূর করতে সবচেয়ে সহজ ও প্রাকৃতিক উপায় হলো সূর্যের আলো। প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট শরীরের কিছু অংশ উন্মুক্ত রেখে রোদে দাঁড়িয়ে থাকলে ত্বক নিজেই ভিটামিন ডি তৈরি করে নেয়। বিশেষ করে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টার মধ্যবর্তী সময়টি রোদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর। 

খাদ্যতালিকায় যা যা রাখতে হবে- সূর্যের আলোর পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনাও জরুরি। সামুদ্রিক মাছ, ডিমের কুসুম, মাশরুম এবং কড লিভার অয়েল ভিটামিন ডি-এর চমৎকার উৎস। এছাড়া বাজারে পাওয়া যায় এমন ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ দুধ বা দইও ডায়েটে রাখা যেতে পারে। তবে যদি ঘাটতি গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছায়, সেক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাত্রার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা প্রয়োজন। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং সুষম খাবার নিশ্চিত করতে পারলে ভিটামিন ডি-এর অভাবজনিত জটিলতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।