রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক বিনোদন ৩ জানুয়ারি ২০২৬, ৫:১২ অপরাহ্ন
শেয়ার

‘আমরা যা খাই, ওরা তা-ই খাবে’: খালেদা জিয়ার আতিথেয়তায় মুগ্ধ মাইলস


Hamin

১৯৯৩-৯৪ সালের এক দুপুর। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের শহীদ মঈনুল রোডের বাসভবনে গান গাওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে জনপ্রিয় ব্যান্ড মাইলস। অনুষ্ঠান শুরুর আগে চলছে সাউন্ডচেক। ঠিক সেই সময়েই ঘটেছিল এক অবিস্মরণীয় ঘটনা, যা আজও মাইলস সদস্যদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে আছে।

ব্যান্ডের অন্যতম সদস্য হামিন আহমেদ সামাজিক মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শোক জানিয়ে সেই স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন।

হামিন আহমেদ লিখেছেন, সেদিনই প্রথমবার তাঁরা বেগম খালেদা জিয়াকে সামনাসামনি দেখার সুযোগ পান। তাঁর ব্যক্তিত্ব এবং আভিজাত্য মাইলস সদস্যদের মুগ্ধ করেছিল। দুপুরে যখন খাবারের সময় হলো, তখন জিয়া পরিবারের আত্মীয়রা তাঁদের কাছাকাছি অন্য কোথাও খাবারের জন্য নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজে এগিয়ে এসে বলেন, ওরা এই বাড়িতেই খাবে। আমরা যা খাই, তা-খাবে।’

প্রধানমন্ত্রীর এমন আন্তরিক নির্দেশে খাবার টেবিলে বসেন মাইলস সদস্যরা। সেখানে কেবল খাবারই জোটেনি, মিলেছিল অভাবনীয় আতিথেয়তা।

হামিন আহমেদ জানান, দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হয়েও বেগম খালেদা জিয়া নিজ হাতে তাঁদের প্লেটে খাবার তুলে দিচ্ছিলেন। সন্ধ্যায় মাইলসের গান শোনার পর তিনি তাঁদের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

হামিন আহমেদের স্মৃতিচারণায় কেবল সেই গানের অনুষ্ঠানই নয়, ফুটে উঠেছে তাঁদের পারিবারিক বন্ধনের গল্পও। দেশবরেণ্য নজরুলসংগীত শিল্পী ফিরোজা বেগমের মৃত্যুর পর তাঁকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দেওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।

হামিন আহমেদ লেখেন, সে সময় অসুস্থতা সত্ত্বেও এই নেত্রী ছুটে গিয়েছিলেন ইন্দিরা রোডের কালিন্দী অ্যাপার্টমেন্টে ফিরোজা বেগমের বাসায়। তিনি এমনভাবে শোকাতপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন, যেন তিনি তাঁদের পরিবারেরই একজন।

হামিন আহমেদের ভাষ্যমতে, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন অত্যন্ত মার্জিত ও মানবিক হৃদয়ের একজন মানুষ। আভিজাত্য আর আপন করে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা তাঁকে মাইলস সদস্যদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন করে দিয়েছে। তাঁর প্রয়াণে মাইলস পরিবার এক বড় শুভাকাঙ্ক্ষীকে হারাল।