বুধবার । মার্চ ৪, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১:৩২ অপরাহ্ন
শেয়ার

জাপানের পার্লামেন্ট ভেঙে দিলেন প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি, হবে আগাম নির্বাচন


Japan PM

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মাধ্যমে দেশটিতে হঠাৎ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হলো।

শুক্রবার জাপানের পার্লামেন্টের স্পিকার একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠ করে নিম্নকক্ষ ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এ সময় সংসদ সদস্যরা ঐতিহ্যবাহী ‘বানজাই’ ধ্বনি দেন। ৪৬৫ সদস্যের নিম্নকক্ষ ভেঙে যাওয়ায় আগামী মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে ১২ দিনের নির্বাচনী প্রচারণা।

গত সোমবারই প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি আগাম নির্বাচনের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। গত অক্টোবরে জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া তাকাইচি মাত্র তিন মাস ধরে ক্ষমতায় থাকলেও তার জনপ্রিয়তা প্রায় ৭০ শতাংশে পৌঁছেছে বলে জরিপে উঠে এসেছে।

নিজের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জনসমর্থন হারানো ক্ষমতাসীন দলকে আবার শক্ত অবস্থানে ফেরাতে চান তিনি। বর্তমানে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) এবং জাপান ইনোভেশন পার্টি (জেআইপি)–এর জোট নিম্নকক্ষে খুবই সামান্য ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে।

জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে ভোক্তা পর্যায়ের মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলা এবং চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চীন ও জাপানের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উত্তেজনার সূত্রপাত হয় গত নভেম্বরে, যখন প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি মন্তব্য করেন—চীন যদি তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, সে ক্ষেত্রে জাপান জড়িয়ে পড়তে পারে। তাইওয়ানকে চীন নিজের ভূখণ্ডের অংশ দাবি করে। তাকাইচির এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে চীন জাপানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে।

এদিকে কিয়োডো নিউজ জানিয়েছে, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী—উভয় শিবির থেকেই খাদ্যপণ্যের ওপর আরোপিত ভোগকর (কনজাম্পশন ট্যাক্স) তুলে নেওয়ার প্রস্তাব উঠেছে, যাতে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমানো যায়।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিজনিত জনঅসন্তোষই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার পতনের অন্যতম কারণ ছিল, যার স্থলাভিষিক্ত হন তাকাইচি।

শুক্রবার প্রকাশিত সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ ও গ্যাসে সরকারি ভর্তুকির কারণে ডিসেম্বরে জাপানের মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমেছে। তাজা খাদ্য বাদ দিয়ে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ২.৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা নভেম্বরে ছিল ৩ শতাংশ। তবে এটি এখনো দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে।

জাপানে চাল এখন মূল্যবৃদ্ধির প্রতীক হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে এক বছরের ব্যবধানে চালের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে গিয়েছিল, যদিও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিছুটা কমেছে। তবুও ডিসেম্বরে চালের দাম আগের বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে সরকারি পরিসংখ্যানে জানা গেছে।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে জাপানের রাজনীতিতে এলডিপি প্রায় নিরবচ্ছিন্নভাবে ক্ষমতায় রয়েছে, যদিও নেতৃত্বে বারবার পরিবর্তন এসেছে। আসন্ন নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (সিডিপি) আরেকটি দল কোমেইতো–এর সঙ্গে জোট বেঁধে ‘সেন্ট্রিস্ট রিফর্ম অ্যালায়েন্স’ গঠন করেছে। তাদের লক্ষ্য দোদুল্যমান ভোটারদের আকৃষ্ট করা।

বিশ্লেষকদের মতে, জোটটি কতটা সফল হয় তার ওপর নির্বাচনের ফল নির্ভর করবে। তবে সামগ্রিকভাবে বিরোধীদের জয়ের সম্ভাবনা এখনো তুলনামূলকভাবে কম বলেই মনে করছেন তারা

আল জাজিরা