বৃহস্পতিবার । মার্চ ১২, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১২ মার্চ ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ন
শেয়ার

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের ঘাটতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো সংকটে


Interceptor

উপসাগরীয় দেশগুলোর এই অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র সময়ক্ষেপণ করছিল

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিরোধে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতিতে পড়েছে। ফলে তারা এখন কোন লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করবে তা বেছে নিতে বাধ্য হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে এ বিষয়ে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস।

বুধবার (১১ মার্চ) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর প্রথম সপ্তাহ থেকেই উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের ইন্টারসেপ্টর পুনরায় সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনুরোধ জানালেও সে বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কার্যত কোনো অগ্রগতি হয়নি।

মিডল ইস্ট আই–এর এক প্রতিবেদনে মার্চের শুরুতে বলা হয়েছিল, উপসাগরীয় দেশগুলোর এই অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র সময়ক্ষেপণ করছিল। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক সাবেক কর্মকর্তা বলেন, গত কয়েক মাসে যত গোলাবারুদ উৎপাদন হয়েছিল, তার কয়েক বছরের সমপরিমাণ আমরা মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ব্যবহার করে ফেলেছি।

এরপর থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ইরান তাদের জ্বালানিসমৃদ্ধ উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর দিকে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা ২৪১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১,৩৮৫টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে বাহরাইন বলেছে, তারা এখন পর্যন্ত ইরানের ১০৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৭৭টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।

সামরিক নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত একটি আসা ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন ধ্বংস করতে প্রায় দুইটি ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করতে হয়।

উপসাগরীয় দেশগুলো মূলত টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বছরে মাত্র প্রায় ৬০০টি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর তৈরি করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে দেখা গেছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভবত পুরোনো প্যাক টু মডেলের ইন্টারসেপ্টরও ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও মিডল ইস্ট আই স্বাধীনভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্যাক টু মডেলও ব্যবহৃত হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো গত সপ্তাহে তুরস্কের আকাশসীমা পরীক্ষা করে দেখতে পারে, যাতে মালাতিয়ায় অবস্থিত ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ রাডার ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা যায়।

তুরস্ক ২০১৫ সাল থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে স্পেন পরিচালিত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রেখেছে। তবে প্যাক টু মডেলটি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট কার্যকর নয় বলে মনে করা হয়।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মানির রামস্টাইন ঘাঁটি থেকে একটি নতুন প্যাক থ্রি প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা মালাতিয়ায় মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ব এশিয়া থেকেও কিছু বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নিতে হয়েছে, যা চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছেন যে সিউলের আপত্তি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেশ থেকে কিছু বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।