সোমবার । মার্চ ৩০, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক স্বাস্থ্য ২৯ মার্চ ২০২৬, ৩:২৫ অপরাহ্ন
শেয়ার

টিকা সংকটে দেশে ছড়িয়ে পড়ছে হাম, ৬০৪ কোটি টাকার জরুরি টিকা কিনছে সরকার


হাম

টিকার সংকট এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের আন্দোলনের ফলে বহু শিশু নিয়মিত টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে

চাঁদপুর থেকে এনআইসিইউ-র খোঁজে ঢাকা এসেও শেষ রক্ষা হলো না ১১ মাস বয়সি আব্দুর রহমানের। চারদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গত ১৯ মার্চ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে সে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, ৯ মাস বয়সে এলাকায় টিকার সংকট থাকায় আব্দুল রহমান হামের প্রতিষেধক পায়নি।

আব্দুর রহমানের এই মৃত্যু কেবল একটি সংখ্যা নয় বরং দেশজুড়ে হামের উদ্বেগজনক প্রাদুর্ভাবের এক জ্বলন্ত প্রতিচ্ছবি। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা, যার মধ্যে ঢাকার বাইরে রাজশাহী ও ময়মনসিংহে গত কয়েকদিনে আরও ছয় শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত বছর সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) বিঘ্ন, টিকার সংকট এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের আন্দোলনের ফলে বহু শিশু নিয়মিত টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এছাড়া ইপিআই কর্মসূচিতে প্রায় ৩০-৩৫ শতাংশ পদ শূন্য থাকাও কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার বড় কারণ।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেক্টর প্রোগ্রাম বন্ধ থাকায় সময়মতো টিকা কেনা সম্ভব হয়নি, যার মাশুল দিচ্ছে ২০২৫ সালের শিশুরা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. নিজাম উদ্দিন জানান, “বর্তমানে হামের টিকার তীব্র সংকট রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ৯ মাসের কম বয়সি শিশু—যাদের এখনও টিকার সময় হয়নি—তারাও বিপুল সংখ্যায় আক্রান্ত হচ্ছে।”

বর্তমানে রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে শয্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা বেশি। ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে এখন ১৩০ জন রোগী ভর্তি আছে, যাদের অনেককেই করিডোর ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একই চিত্র দেখা গেছে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালেও। সেখানে ৬ মাস থেকে ৩ বছর বয়সি রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি।

পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জরুরি ভিত্তিতে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে টিকা কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন:

  • হামের জন্য বিশেষায়িত বা ডেডিকেটেড হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

  • পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতাল ব্যবহার করা হবে।

  • নবজাতকদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে নতুন ভেন্টিলেটর মেশিন কেনা হচ্ছে।

  • মাঠ পর্যায়ে দ্রুত ‘মিজেলস ক্যাচ-আপ ক্যাম্পেইন’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়েছেন, শিশুর জ্বর, সর্দি ও শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে এবং সময়মতো টিকা নিশ্চিত করতে।