সোমবার । মার্চ ৩০, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক স্বাস্থ্য ২৯ মার্চ ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ন
শেয়ার

যক্ষ্মার ঝুঁকি কমাতে জরুরি ১০ অভ্যাস


TB

মাইকোব্যাক্টেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে যক্ষ্মা হয়

বাতাসের মাধ্যমে ছড়ানো প্রাণঘাতী রোগ যক্ষ্মা বা টিউবারকিউলোসিস (টিবি) নিয়ে এখনো অনেকের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। মাইকোব্যাক্টেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হওয়া এই রোগ সাধারণত ফুসফুসকে আক্রান্ত করলেও এটি শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবনযাপনে সামান্য কিছু পরিবর্তন এবং দশটি বিশেষ অভ্যাস মেনে চললে এই রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। যক্ষ্মার ঝুঁকি কমাতে যে ১০টি অভ্যাস জরুরি:

পুষ্টিকর ও সুষম খাবার
 শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, টাটকা ফলমূল ও শাকসবজি নিয়মিত খেতে হবে। খাদ্যতালিকায় ডাল, বাদাম ও বীজ রাখা জরুরি। অন্যদিকে, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে, কারণ এগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

পর্যাপ্ত সূর্যালোক
প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট রোদে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সূর্যালোক থেকে পাওয়া ভিটামিন ডি শরীরের এমন কিছু কোষকে সক্রিয় করে, যা সরাসরি টিবি ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম।

পর্যাপ্ত পানি পান
শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা এবং দূষিত পদার্থ বের করে দিতে প্রতিদিন প্রচুর পানি পান করা প্রয়োজন। এটি শরীরকে দ্রুত সেরে উঠতে সহায়তা করে।

গভীর ঘুম নিশ্চিত করা
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। গভীর ঘুমের সময় শরীরে ‘সাইটোকাইন’ নামক প্রোটিন তৈরি হয়, যা যক্ষ্মার জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

ঘরের বাতাস চলাচল বা ভেন্টিলেশন
যক্ষ্মার জীবাণু বদ্ধ ঘরে দীর্ঘক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে। তাই ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিন অন্তত দু’বার ৩০ মিনিটের জন্য বিপরীতমুখী দরজা-জানালা খুলে রাখলে জীবাণুর ঘনত্ব কমে যায়।

জনাকীর্ণ স্থান এড়ানো: জনাকীর্ণ স্থানে যক্ষ্মা জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই সম্ভব হলে জনাকীর্ণ স্থান এড়িয়ে চলা উচিত। বিশেষ করে যারা যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হন, তাদের থেকে কমপক্ষে ৬ ফুট দূরে থাকতে হবে।

মাস্ক ব্যবহার করা: যক্ষ্মা জীবাণু বাতাসে দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারে। তাই বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। মাস্ক ব্যবহারের ফলে যক্ষ্মা জীবাণু শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশের ঝুঁকি কমে যায়।

হাত ধোয়া: যক্ষ্মা জীবাণু হাতের মাধ্যমেও শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই বাইরে থেকে এসে হাত ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে। হাত ধোয়ার ফলে যক্ষ্মা জীবাণু হাত থেকে দূর হয়ে যায়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো: যক্ষ্মা জীবাণু শরীরের দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকা অবস্থায় বেশি আক্রমণ করে। তাই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, টাটকা ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়ার ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

টিকা নেওয়া: যক্ষ্মা জীবাণু থেকে বাঁচার জন্য টিকা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। টিকা নেওয়ার ফলে যক্ষ্মা জীবাণু শরীরে প্রবেশের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

যদি দীর্ঘদিন কাশি, জ্বর, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া কিংবা রাতে ঘাম হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা এবং পরিচ্ছন্ন জীবনযাপনই হতে পারে যক্ষ্মা থেকে সুরক্ষার প্রধান হাতিয়ার।