বৃহস্পতিবার । এপ্রিল ১৬, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ৯:২৭ অপরাহ্ন
শেয়ার

উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ২০০ কোটি ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী


PM-Tareq-Rahman

অনলাইন সামিটে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বাংলাদেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটানো এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি প্লাস অনলাইন সামিটে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি জরুরি পদক্ষেপ, ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ এবং দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি রাখে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করাকে বৈশ্বিক অগ্রাধিকার হিসেবে দেখতে হবে।

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দ্রুত ও ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার আহ্বান জানান।

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সংকট বিশ্বে পারস্পরিক নির্ভরতা ও দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। কোনো দেশ এককভাবে এ সংকট মোকাবিলা করতে পারবে না। আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং সরবরাহ বিঘ্ন মোকাবিলায় এশিয়ার দেশগুলোর সমন্বিত ও দূরদর্শী উদ্যোগ জরুরি।

জ্বালানি সংকটের প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইতোমধ্যে কয়েকটি স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—সরকারি অফিস ও বাজারের সময়সূচি পরিবর্তন, জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি আমদানি বৃদ্ধি, বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করা, জ্বালানি রেশনিং এবং খুচরা বিক্রয়ে সীমা নির্ধারণ। পাশাপাশি মজুতদারি ও আতঙ্কজনিত কেনাকাটা ঠেকাতে ‘ফুয়েল অ্যাপ’-এর মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সংকটের মাত্রা ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে, যা একসময় বৈশ্বিক উন্নয়নকে স্থবির করে দিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে চলমান সংকট সেই অর্জনকে পিছিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।

এ সময় তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে সময়োপযোগী এই সম্মেলন আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান।

ভার্চুয়াল এ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমসহ জাপান, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও পূর্ব তিমুরের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা অংশ নেন। সমাপনী বক্তব্য দেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।

বিকেলে সংসদ ভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে যুক্ত হন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।