
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ এড়াতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি বিশ্ববাজারে। উল্টো আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বেড়েছে, যার ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প এই ঘোষণা দিলেও তেলের বাজার ছিল অস্থির।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। দিনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৯৫ ডলারের নিচে থাকলেও, সময়ের সাথে সাথে তা ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। দিনশেষে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হয়েছে ৯৮.৪৮ ডলারে, যা আগের দিনের তুলনায় ৩.১ শতাংশ বেশি। ইরান সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং নতুন প্রস্তাবের অপেক্ষায় থাকা বাজার পরিস্থিতি এখন অনেকটাই অনিশ্চিত।

কেবল তেলের বাজার নয়, বড় ধরণের অস্থিরতা দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও। মঙ্গলবার দিনের শুরুতে বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও দিনশেষে সূচকগুলোতে বড় পতন দেখা যায়। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০.৬ শতাংশ কমেছে। ডাউ জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ একপর্যায়ে প্রায় ৪০০ পয়েন্ট বাড়লেও শেষ পর্যন্ত ২৯৩ পয়েন্ট বা ০.৬ শতাংশ কমে লেনদেন শেষ করে। এছাড়া প্রযুক্তি খাতের নাসদাক কম্পোজিট সূচকও ০.৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও ইরানের সঙ্গে আলোচনার চূড়ান্ত ফলাফল কী হবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা সন্দিহান। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টের পাকিস্তান সফর হঠাৎ স্থগিত হওয়া এই অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক এই অস্থিতিশীলতা ও আলোচনার দীর্ঘসূত্রিতার কারণেই তেলের বাজার ও শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ববাজার এখন ইরানের পাল্টা জবাব ও ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে। যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমঝোতা না হচ্ছে, ততক্ষণ তেলের দাম ও শেয়ারবাজারের এই অস্থিরতা বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে।







































