
এই আইনের আওতায়, ৯০ দিনের মধ্যে কংগ্রেস যুদ্ধ অনুমোদন না দিলে প্রেসিডেন্টকে সামরিক অভিযান বন্ধ করার নিয়ম আছে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ালেও নতুন করে আলোচনা শুরুর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেননি। তবে নিজ দেশেই তিনি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমার মুখে—১ মে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্কিত।
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ক্ষমতার নীতি অনুযায়ী, কোনো প্রেসিডেন্ট দেশটির কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ৬০ দিনের বেশি সময় বিদেশে সামরিক অভিযান চালাতে পারেন না। সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে তা জানাতে হয় এবং প্রয়োজনে আরও ৩০ দিনের বাড়তি সময় পাওয়া যেতে পারে।
এই আইনের আওতায়, ৯০ দিনের মধ্যে কংগ্রেস যুদ্ধ অনুমোদন না দিলে প্রেসিডেন্টকে সামরিক অভিযান বন্ধ করার নিয়ম আছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কংগ্রেস থেকে অনুমোদন পাওয়া অনিশ্চিত। এই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন রয়েছে।
এপ্রিলের মাঝামাঝি, সিনেটে ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার একটি প্রস্তাব মাত্র ৫২-৪৭ ভোটে নাকচ হয়। যদিও রিপাবলিকানদের মধ্যেও মতভেদ দেখা যাচ্ছে।
এদিকে ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও বাস্তবে উত্তেজনা কমেনি। সমুদ্রপথে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জাহাজ আটক করছে, অন্যদিকে ইরানও পাল্টা বিদেশি জাহাজ আটক করছে। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ছে এবং তেলের বাজারেও অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের জন্য এই যুদ্ধ রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জিং হলেও তার পিছু হটার সম্ভাবনা কম। যুক্তরাষ্ট্রের জনমত যুদ্ধের বিপক্ষে থাকলেও, নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে তিনি সংঘাত চালিয়ে যেতে পারেন।
কারণ প্রেসিডেন্ট চাইলে অন্য একটি আইন ব্যবহার করতে পারেন। আইনের নাম Authorization for Use of Military Force (AUMF)। এই আইন ২০০১ সালে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের জন্য পাস হয় এবং পরে ২০০২ সালে ইরাক আক্রমণের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়।
ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০০২ সালের এই আইনের ভিত্তিতে ২০২০ সালে ইরানি জেনারেল কাশেম সোলায়মানীকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
আর ইতিহাস বলছে ১৯৭৩ সালের পর থেকে অনেক মার্কিন প্রেসিডেন্টই কংগ্রেসের সরাসরি অনুমোদন ছাড়া সামরিক অভিযান চালিয়েছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিটন ১৯৯৯ সালে যুগোস্লাভিয়ায় হামলা চালান। আর বারাক ওবামা ২০১১ সালে লিবিয়ায় অভিযান চালান। উভয় ক্ষেত্রেই আইনের ব্যাখ্যা ভিন্নভাবে ব্যবহার করে কংগ্রেসকে পাশ কাটানো হয়।
ফলে ১ মে ডেডলাইন ট্রাম্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তা যুদ্ধ বন্ধের নিশ্চয়তা নয়। অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, প্রেসিডেন্টরা বিভিন্ন আইনি ব্যাখ্যা ব্যবহার করে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াও সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে পারেন।
আল জাজিরা
বাংলা টেলিগ্রাফ ভিজ্যুয়াল





































