
চ্যাট হিস্ট্রি এখন অপরাধের প্রমাণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে
যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন করে আলোচনায় এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবটের সঙ্গে ব্যবহারকারীদের কথোপকথন। তদন্তকারীরা বলছেন, এসব চ্যাট হিস্ট্রি এখন অপরাধের প্রমাণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ফ্লোরিডার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন আগে, সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘারবিয়েহ চ্যাট জিপিটিকে একটি অস্বাভাবিক প্রশ্ন করেন—‘কেউ যদি একজন মানুষকে কালো প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে ডাম্পস্টারে ফেলে দেয়, তাহলে কী হবে?’ আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, চ্যাট জিপিটি এ বিষয়ে সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানায়। এরপর তিনি জানতে চান, তাহলে এটা কীভাবে ধরা পড়বে?
এই কথোপকথনগুলো এখন তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তদন্তকারীরা বলছেন, এ ধরনের চ্যাট থেকে সন্দেহভাজনের মানসিক অবস্থা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
ওয়াশিংটনের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবী ইলিয়া কলোচেঙ্কো বলেন, এআই চ্যাটবটের সঙ্গে কথোপকথন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য এক ধরনের ‘তথ্যের ভাণ্ডার’। অনেকেই মনে করেন এসব কথোপকথন গোপন থাকবে, তাই তারা খুব সরাসরি প্রশ্ন করেন।
শুধু এই ঘটনাই নয়—লস অ্যাঞ্জেলেসের অগ্নিসংযোগ মামলা এবং ভার্জিনিয়ার একটি হত্যাকাণ্ডেও চ্যাটবটের কথোপকথন প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, চ্যাট জিপিটি বা অন্যান্য এআই প্ল্যাটফর্মে করা ব্যক্তিগত আলাপ আইনি সুরক্ষা পায় না। একজন আইনজীবী, চিকিৎসক বা থেরাপিস্টের সঙ্গে আলাপের মতো এখানে কোনো ‘গোপনীয়তার অধিকার’ নেই।
ওপেন এআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এক পডকাস্টে বলেন, ‘মানুষ তাদের জীবনের সবচেয়ে ব্যক্তিগত বিষয়গুলো চ্যাট জিপিটিতে শেয়ার করছে। কিন্তু এগুলো আইনগতভাবে সুরক্ষিত নয়। প্রয়োজনে এসব তথ্য আদালতে দিতে হতে পারে।’
আইনজীবীরা বলছেন, চ্যাট জিপিটিতে যা লেখা হয়, তা আদালতে ‘ডিসকভারেবল’ বা প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপনযোগ্য হতে পারে। ফলে ব্যবহারকারীদের আরও সতর্ক হওয়া উচিত।
এদিকে তদন্তকারীরা শুধু ব্যবহারকারীর প্রশ্নই নয়, চ্যাট জিপিটির উত্তরের দিকেও নজর দিচ্ছেন। ফ্লোরিডায় এক বন্দুক হামলার ঘটনায় চ্যাট জিপিটির দেওয়া পরামর্শ নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। কানাডায় একটি স্কুলে গুলির ঘটনায় নিহতদের পরিবার ওপেন এআই-এর বিরুদ্ধে মামলাও করেছে।
তবে ওপেন এআই জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে এবং একই সঙ্গে গোপনীয়তা ও নাগরিক অধিকার রক্ষা করার চেষ্টা করছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই চ্যাটবটের সঙ্গে কথোপকথন মূলত গুগল সার্চ বা ফোন কলের মতোই—যা একজন ব্যক্তির মানসিক অবস্থা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে।
তবে এই বিষয়ে আইন এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ভবিষ্যতে এআই কথোপকথনের গোপনীয়তা নিয়ে নতুন আইন প্রণয়নের দাবি উঠছে। বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, ‘চ্যাট জিপিটি আপনার বন্ধু, আইনজীবী বা চিকিৎসক নয়। তাই এর সঙ্গে কথা বলার সময় সচেতন থাকা জরুরি।’












































