
ছবি: সংগৃহীত
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে টেস্টের প্রথম দিন নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হকের দারুণ জুটিতে স্বস্তির অবস্থানে থেকে দিন শেষ করেছে টাইগাররা।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় মাত্র ৩১ রানেই সাজঘরে ফেরেন দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় (৮) ও সাদমান ইসলাম (১৩)। শাহিন শাহ আফ্রিদি ও হাসান আলীর বোলিং তোপে যখন ধ্বংসস্তূপে পড়ার শঙ্কা, ঠিক তখনই হাল ধরেন শান্ত ও মুমিনুল। তৃতীয় উইকেটে এই দুই বাঁহাতি ব্যাটার ১৭০ রানের এক মহাকাব্যিক জুটি গড়ে পাকিস্তানকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এদিন ছিলেন পুরোপুরি আক্রমণাত্মক মেজাজে। ১৩০ বলে ১০১ রানের ঝকঝকে এক ইনিংস খেলেন তিনি, যাতে ছিল ১২টি চার ও ২টি ছক্কার মার। টেস্ট মেজাজ ধরে রাখার পাশাপাশি সুযোগ পেলেই বোলারদের ওপর চড়াও হয়েছেন তিনি। দলীয় ২০১ রানে শান্ত যখন বিদায় নেন, ততক্ষণে বাংলাদেশ বড় সংগ্রহের ভিত পেয়ে গেছে।
শান্তর বিদায়ের পর সেঞ্চুরির পথে হাঁটছিলেন মুমিনুল হকও। বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়ার হাতছানি ছিল তাঁর সামনে। কিন্তু ব্যক্তিগত ৯১ রানে নোমান আলীর বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে আক্ষেপে পুড়তে হয় তাঁকে। ১০টি বাউন্ডারিতে সাজানো তাঁর এই ইনিংসটি দলের বিপর্যয়ে ছিল অত্যন্ত কার্যকর। সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ কানপুর টেস্টের পর তাঁর সেঞ্চুরির অপেক্ষাটা আরও কিছুটা বাড়ল।
প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৩০১ রান। অপরাজিত আছেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম (৪৮) এবং লিটন দাস (৮)। মুশফিক তাঁর ফিফটি থেকে মাত্র ২ রান দূরে রয়েছেন। পাকিস্তানের পক্ষে শাহিন আফ্রিদি, হাসান আলী, নোমান আলি ও মোহাম্মদ আব্বাস প্রত্যেকেই একটি করে উইকেট নিয়েছেন।
বাকি ৬ উইকেট হাতে রেখে দ্বিতীয় দিনে বড় সংগ্রহের লক্ষ্যে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। মুশফিক-লিটন জুটি কতদূর এগোতে পারেন, তার ওপরই নির্ভর করছে ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ।










































