রবিবার । মে ১০, ২০২৬
সেতু ইসরাত ফিচার ১০ মে ২০২৬, ২:৪০ অপরাহ্ন
শেয়ার

আজ নিজের অন্তর্দৃষ্টিকে বিশ্বাসের দিন


My DAY

নিজের অন্তর্দৃষ্টিকে বিশ্বাস করার দিন

আমরা অনেকেই মনে করি হুট করে মনে হওয়া কোনো অনুভূতি হয়তো নিছক কল্পনা। কিন্তু এই ‘মনে হওয়া’ বা অন্তর্দৃষ্টির যে এক বিশাল ক্ষমতা আছে, তা বিশ্ববাসীকে মনে করিয়ে দিতেই পালিত হয় ‘নিজের অন্তর্দৃষ্টিকে বিশ্বাস করার দিন’।

এই দিনটি পালনের সূচনা হয় মূলত ২০০২ সাল থেকে। ‘ট্রাস্ট ইয়োর গাট ইনস্টিটিউট’ (Trust Your Gut Institute) নামক একটি সংস্থা প্রথম এই দিনটি পালনের উদ্যোগ নেয়। এরপর থেকে প্রতি বছর ১০ মে দিনটি বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে।

এই দিনটি পালনের পেছনে কোনো যুদ্ধ বা রাজনৈতিক জয়গানের ইতিহাস নেই বরং এর পেছনে রয়েছে মানুষের মানসিক সক্ষমতাকে জাগিয়ে তোলার গল্প। বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে মনোবিজ্ঞানীরা খেয়াল করেন যে, আধুনিক মানুষ অতিরিক্ত তথ্য আর প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করতে গিয়ে নিজের সহজাত বিচারবুদ্ধি বা ‘গাট ফিলিং’ হারিয়ে ফেলছে।

এই প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞ এবং গবেষকরা সিদ্ধান্ত নেন এমন একটি দিন থাকা দরকার, যা মানুষকে শেখাবে কীভাবে তথ্যের ভিড়েও নিজের ভেতরের কণ্ঠস্বরকে শুনতে হয়। তারা একটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন— যেমন, একজন মা তার সন্তানের কান্নার ধরণ শুনেই বুঝতে পারেন সে ক্ষুধার্ত নাকি অসুস্থ। এখানে কোনো বই বা যুক্তি নয় বরং কাজ করে দীর্ঘদিনের এক গভীর অন্তর্দৃষ্টি। এই সহজাত ক্ষমতাকে উদযাপন করতেই দিনটির জন্ম।

কেন ১০ মে বেছে নেওয়া হলো?
দিনটি মে মাসে পালনের একটি প্রতীকী কারণ আছে। বসন্তের এই সময়ে প্রকৃতি যেমন নতুন করে জেগে ওঠে, তেমনি মানুষের মনকেও নতুন করে চেনা এবং নিজের ওপর আস্থা ফেরানোর জন্য এই সময়টিকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

ইতিহাসের পাতায় তাকালে দেখা যায়, ১৯১২ সালে টাইটানিক জাহাজ ডুবি কিংবা বড় বড় অনেক দুর্ঘটনাই এড়ানো সম্ভব হতো যদি মানুষ তাদের ভেতরের সেই ‘কু-ডাক’ বা খটকাকে গুরুত্ব দিত। অনেক যাত্রীই শেষ মুহূর্তে জাহাজে না ওঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কারণ তাদের মন বারবার বলছিল— ‘এটাই ঠিক হবে না’।

আবার আধুনিক বিজ্ঞানের দিকে তাকালে দেখা যায়, স্টিভ জবসের মতো সফল ব্যক্তিত্বরা সবসময় বলতেন যে, গ্রাহক কী চায় তা বোঝার জন্য তিনি বড় বড় সার্ভে রিপোর্ট দেখার চেয়ে নিজের অন্তর্দৃষ্টির ওপর বেশি ভরসা করতেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দিনটি কেবল উদযাপনের নয় বরং অনুশীলনের। যুক্তি আর অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজের মনের ইশারাকে মিলিয়ে নেওয়ার অভ্যাস গড়লে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।