শুক্রবার । মে ১৫, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১৫ মে ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ন
শেয়ার

‘খুব সফল’ বৈঠকের দাবি ট্রাম্প-শির, তবে বড় কোনো চুক্তির ঘোষণা নেই


Trump Xi

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

দুই দিনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে চীন থেকে বিদায় নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সফর শেষে তিনি দাবি করেছেন, চীনের সঙ্গে ‘দারুণ’ বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে, যা দুই দেশের জন্যই ভালো হবে। তবে এখন পর্যন্ত দুই দেশের পক্ষ থেকেই বড় কোনো চুক্তির বিস্তারিত ঘোষণা আসেনি।

বুধবার (১৩ মে) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে অংশ নিতে বেইজিং পৌঁছান ট্রাম্প। তার সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন কৃষি, বিমান, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের বেশ কয়েকজন শীর্ষ মার্কিন ব্যবসায়ী।

সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও বৈঠকের মূল আলোচনায় ছিল বাণিজ্য। বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকা শুল্ক বিরতি বা ‘ট্যারিফ ট্রুস’ বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়ে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ ছিল বেশি।

এই সফরে কূটনৈতিক উষ্ণতা ও প্রতীকী আয়োজনই বেশি নজর কেড়েছে। ট্রাম্পকে দেওয়া হয় রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা, গার্ড অব অনার। ছিল রাষ্ট্রীয় ভোজ। এছাড়া তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয় ঝোংনানহাইয়ে, যেখানে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতারা বসবাস ও কাজ করেন। খুব কম মার্কিন নেতাই এর আগে সেখানে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে ট্রাম্প বলেন, আলোচনা ‘খুবই সফল’ হয়েছে। অন্যদিকে শি জিনপিং এই সফরকে ‘ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী’ বলে উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্প শি জিনপিংকে আগামী সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন।

তবে দুই শীর্ষ নেতার ইতিবাচক বক্তব্যের পরও বড় কোনো বাণিজ্যিক অগ্রগতির ঘোষণা আসেনি। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রে ‘শত শত বিলিয়ন ডলার’ বিনিয়োগ করবে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

তিনি আরও দাবি করেন, চীন ২০০টি বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। প্রায় এক দশক পর এটি হবে চীনের প্রথম বড় মার্কিন বাণিজ্যিক বিমান ক্রয়। যদিও বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার তুলনায় সংখ্যাটি কম। অন্যদিকে বেইজিং এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো বড় কেনাকাটার বিষয় নিশ্চিত করেনি।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে বলেন, ‘চীন-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক লাভ ও সহযোগিতা।’

তিনি বলেন, দুই দেশের উচিত বৈঠকে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে স্থিতিশীলতা আনা।

গত অক্টোবরে দুই দেশ একটি সাময়িক বাণিজ্য সমঝোতায় পৌঁছেছিল। তখন যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ স্থগিত করে এবং চীন উৎপাদন খাতে গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজ রপ্তানিতে কড়াকড়ি শিথিল করে। তবে সেই সমঝোতা নভেম্বরের পর বাড়ানো হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানান, বিষয়টি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, দুই নেতা ভবিষ্যতে নতুন করে শুল্ক আলোচনা না করে বাণিজ্য সম্পর্ক পরিচালনার জন্য একটি ‘বোর্ড অব ট্রেড’ গঠনে সম্মত হয়েছেন।

সফরের আরেকটি বড় আলোচনার বিষয় ছিল প্রযুক্তি খাত। ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক এবং এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং। তাদের উপস্থিতি থেকেই ধারণা করা হচ্ছে, এআই ও চিপ প্রযুক্তি বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।

বিশেষ করে এনভিডিয়া আবারও চীনে উন্নতমানের চিপ বিক্রি করতে চায়। বর্তমানে মার্কিন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের কারণে তা সীমিত রয়েছে। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, চিপ রপ্তানি বিষয়টি বৈঠকের প্রধান আলোচ্য ছিল না।

বাণিজ্যের পাশাপাশি তাইওয়ান ইস্যুও আলোচনায় উঠে আসে। বৈঠকে শি জিনপিং সতর্ক করে বলেন, ‘তাইওয়ান প্রশ্ন চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি ভুলভাবে পরিচালিত হলে দুই দেশের মধ্যে সংকট তৈরি হতে পারে।’

এদিকে ইরান পরিস্থিতি ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তাও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। ট্রাম্প বলেন, শি জিনপিং হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও দ্রুত যুদ্ধবিরতি ও নৌপথ সচল করার আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হলেও বড় কোনো বাস্তব অগ্রগতি এখনো হয়নি। তবে সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটনে সম্ভাব্য দ্বিতীয় শীর্ষ বৈঠকের আগে আলোচনা চলতে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলা টেলিগ্রাফ উদ্যোগের গল্প