
টেস্ট ক্যারিয়ারে ষষ্ঠ সেঞ্চুরি লিটনের
উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন দাসের চমৎকার সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রানে অলআউট হয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। দলের হয়ে ১২৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন লিটন।
দিনের শেষভাগে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে টেস্টের প্রথম দিন শেষে বিনা উইকেটে ২১ রান তুলেছে পাকিস্তান। ১০ উইকেট হাতে নিয়ে এখনও ২৫৭ রানে পিছিয়ে সফরকারীরা।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ আব্বাসের শিকার হয়ে খালি হাতে বিদায় নেন বাংলাদেশ ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়।
দ্বিতীয় উইকেটে ৪৪ রান যোগ করে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান ও তিন নম্বরে নামা মোমিনুল হক। ভালো শুরু করেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন তারা। ৩টি চারে ২৬ রান করা তানজিদকে থামান আব্বাস। মোমিনুলকে শিকার করেন পাকিস্তানের আরেক পেসার খুররাম শাহজাদ। ৩ বাউন্ডারিতে ২২ রান করেন প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসে জোড়া হাফ-সেঞ্চুরি করা মোমিনুল।
৬৩ রানে ৩ উইকেট পতনের পর বাংলাদেশের রান ১শতে নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম। এতে ৩ উইকেটে ১০১ রানে দিনের প্রথম সেশন শেষ করে বাংলাদেশ। বিরতির পর ১০ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে যাবার শঙ্কায় পড়ে টাইগাররা। ১১৬ রানে ষষ্ঠ উইকেট পতন হয় বাংলাদেশের। এসময় শান্ত ২৯, মুশফিক ২৩ ও মেহেদি হাসান মিরাজ ৪ রানে আউট হন।
গুটিয়ে যাবার শঙ্কা থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে পাকিস্তানের বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন লিটন দাস ও তাইজুল ইসলাম। সপ্তম উইকেটে তাদের ৫২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৬ উইকেটে ১৬৮ রান তুলে চা-বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা। ঐসময় তাইজুল ১১ ও লিটন ৪২ রানে অপরাজিত ছিলেন।
বিরতির পর চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে লিটন-তাইজুলের ৬০ রানের জুটি ভাঙ্গেন পাকিস্তানের স্পিনার সাজিদ খান। ২ চারে ১৬ রান করা তাইজুলকে বোল্ড করেন সাজিদ। তখন অন্যপ্রান্তে ৪৫ রানে অপরাজিত লিটন।
এরপর তাসকিন আহমেদের সাথে অষ্টম উইকেটে ৩৮ রান যোগ করে বাংলাদেশের স্কোর ২শ পার করেন লিটন। এই জুটিতে লিটনের অবদান ৩০ রান।
তাসকিন ৭ রানে ফেরার পর ক্রিজে লিটনের সঙ্গী হন শরিফুল ইসলাম। নবম উইকেটে শরিফুলকে নিয়ে ৭৩ বলে ৬৪ রান যোগ করে দলের স্কোর আড়াইশ পার করেন লিটন। এই জুটিতে টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় সেঞ্চুরির স্বাদ নেন লিটন। এজন্য ১৩৫ বল খেলেন তিনি।
সেঞ্চুরির পর ইনিংস বড় করার চেষ্টা করেন লিটন। কিন্তু ৭৭তম ওভারে দলীয় ২৭৮ রানে থামতে হয় লিটনকে। পাকিস্তানের পেসার হাসান আলির বলে আব্দুল্লাহ ফজলকে ক্যাচ দেন তিনি। ১৬টি চার ও ২টি ছক্কায় ১৫৯ বল খেলে ১২৬ রানে আউট হন লিটন।
লিটন ফেরার ওভারেই শেষ ব্যাটার হিসেবে নাহিদ রানা আউট হলে ২৭৮ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। অন্যপ্রান্তে ১২ রানে অপরাজিত থাকেন শরিফুল।
খুররম শাহজাদ ৪টি, মোহাম্মদ আব্বাস ৩টি ও হাসান আলি ২টি উইকেট নেন।
বাংলাদেশের ইনিংস শেষে দিনের শেষভাগে ৬ ওভার ব্যাট করার সুযোগ পায় পাকিস্তান। বিনা উইকেটে ২১ রান তুলে তারা। দুই ওপেনার আজান আওয়াইস ১৩ ও ফজল ৮ রানে অপরাজিত আছেন।











































