
ছবি: সংগৃহীত
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই মুহূর্তে স্ক্রল করলেই মোবাইলের স্ক্রিনে ভেসে উঠছে একটি চেনা মুখ আর তার সিগনেচার ডায়লগ—‘কথাটা ঠিক না বেঠিক?, মামা, রাগ করলা’। ফেসবুক, টিকটক কিংবা ইউটিউব; সবখানেই এখন এই সংলাপ দিয়ে তৈরি হচ্ছে লাখ লাখ রিলস, ভিডিও আর মিম। ক্যামেরার সামনে কবিরাজের ছদ্মবেশে থাকা এই ব্যক্তির আসল নাম ঈমান আলী।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নেট দুনিয়া কাঁপানো এই ‘কবিরাজ’ বাস্তবে কোনো কবিরাজ বা তান্ত্রিক নন, বরং তিনি একজন পুরোদস্তুর পেশাদার অভিনেতা। প্রায় ২০-২৫ বছর আগে ভাগ্য অন্বেষণে সপরিবারে লালমনিরহাট জেলা থেকে গাজীপুরে আসেন ঈমান আলী। বর্তমানে তিনি গাজীপুরেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।
ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি দারুণ ঝোঁক ছিল তার। একটা সময় সেই শখটাই তার প্রধান পেশায় রূপ নেয়। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে কেন্দ্র করে অভিনয়কেই তিনি জীবিকা নির্বাহের প্রধান মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। বিভিন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও নাট্যদলের সাথে যুক্ত হয়ে সামাজিক সচেতনতামূলক এবং হাস্যরসাত্মক ভিডিওতে নিয়মিত অভিনয় করেন তিনি।
সম্প্রতি একটি ফেসবুক ও ইউটিউব নাটকের জন্য কবিরাজের চরিত্রে অভিনয় করেন ঈমান আলী। সেখানে এক ব্যক্তির সাথে কথোপকথনের সময় তার অভিনব বাচনভঙ্গি, চোখের ইশারা আর বিশেষ কায়দায় বলা ‘কথা ঠিক না বেঠিক, রাগ করলা’ ডায়লগটি রাতারাতি লুফে নেয় নেট নাগরিকেরা। মুহূর্তের মধ্যেই লাখ লাখ ভিউ এবং শেয়ারের মাধ্যমে এটি পুরো দেশে ভাইরাল কনটেন্টে পরিণত হয়।
হঠাৎ এমন তুমুল জনপ্রিয়তায় উচ্ছ্বসিত ঈমান আলী বলেন, ‘আমার ইচ্ছে ছিল অভিনয়ের মাধ্যমে সারা দেশের মানুষের কাছে পরিচিত হওয়ার। আজ আমার সেই ইচ্ছে পূরণ হয়েছে। তবে আমি পেশাদার কোনো কবিরাজ নই। চরিত্রের প্রয়োজনে অভিনয়ের মাধ্যমে আমি শুধু পেশাটাকে ফুটিয়ে তুলেছি। হয়তো অনেকেই সত্যি সত্যি আমাকে কবিরাজ ভেবে ভুল করছেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি কেবলই অভিনয় এবং বিনোদনের উদ্দেশ্যে তৈরি করা ছিল।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি চাই যত দিন বেঁচে থাকবো মানুষকে এভাবে বিনোদন দিয়ে যাবো।’ তার এই আকস্মিক ভাইরাল হওয়া ও জনপ্রিয়তা নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যেও বেশ চাঞ্চল্য ও আনন্দ দেখা গেছে।











































