
দেশের উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য সামনে রেখে আগামী মুদ্রানীতিতে সুদহার কমানো হবে কি না—এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে।
বুধবার গভর্নরের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালক ও পরিচালকরা অংশ নেন। সেখানে সুদহার কমানো ও অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে ভিন্ন ভিন্ন মত উঠে আসে।
বৈঠকে কিছু কর্মকর্তা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সুদহার কমানোর পক্ষে মত দেন। তারা আশপাশের দেশের উদাহরণ টেনে বলেন, উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে, ফলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাদের মতে, সুদহার না কমালে প্রত্যাশিত বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব নয়।
অন্যদিকে অনেক কর্মকর্তা ভিন্ন মত দিয়ে বলেন, অতীতে সুদহার কম থাকলেও কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ হয়নি। তাই শুধু সুদহার কমানোই সমাধান নয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর জাকির হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশে মূল্যস্ফীতি ও বাজার পরিস্থিতি সুদহারের পরিবর্তনের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল নয়; বরং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও বড় ভূমিকা রাখে। আরেক ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ বলেন, প্রচলিত অর্থনৈতিক ধারণা সব ক্ষেত্রে কার্যকর নাও হতে পারে, তাই সিদ্ধান্ত নিতে সতর্কতা প্রয়োজন।
বৈঠকে আরও উঠে আসে কিছু ব্যাংকের উচ্চ মুনাফা এবং তারল্য প্রবাহের বিষয়ও। বলা হয়, দুর্বল ব্যাংক থেকে আমানত শক্তিশালী ব্যাংকে স্থানান্তরিত হচ্ছে, ফলে কিছু ব্যাংক তুলনামূলক কম সুদে আমানত পেয়েও বেশি হারে ঋণ দিচ্ছে।
তবে বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে ১০ শতাংশ নীতি সুদহার বজায় রেখেছে, যা মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে না নামা পর্যন্ত অপরিবর্তিত রাখার নীতি রয়েছে। সর্বশেষ এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮.৫৯ শতাংশে।









































