
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য আজকের দিনটি এক গৌরবময় ও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। নিজেদের দীর্ঘ ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইউরোপের মাটিতে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে মাঠে নামছে লাল-সবুজের দল। ফিফা টায়ার-১ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে আজ শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১১টায় বাংলাদেশের মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দেশ সান মারিনো।
এই ম্যাচটি শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, সান মারিনোর ফুটবল ইতিহাসেও একদম নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে আসছে। কারণ, নিজেদের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো এশিয়ান দেশের বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছে ইউরোপের এই দলটি। বর্তমান ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১তম এবং সান মারিনো রয়েছে ২১১তম স্থানে। অর্থাৎ, কাগজে-কলমে র্যাঙ্কিংয়ের হিসাবে সান মারিনোর চেয়ে ৩১ ধাপ এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।
তবে র্যাঙ্কিংয়ের এই ব্যবধান মাঠের লড়াইকে মোটেও সহজ করছে না। বরং ইউরোপের অপরিচিত পরিবেশ, দীর্ঘ সফরের ক্লান্তি এবং নতুন কন্ডিশনের কারণে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ও ভিন্ন মাত্রার হতে যাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে দেশের ফুটবলের আরেকটি ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা; এই ম্যাচের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ‘ভিএআর’ প্রযুক্তির অধীনে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় দল।
এদিকে প্রতিপক্ষ সান মারিনো গত দুই বছর ধরে তাদের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা সময় পার করছে। ২০২৪ সালে লিখটেনস্টাইনের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম প্রতিযোগিতামূলক জয়ের দেখা পাওয়ার পর, একই প্রতিপক্ষকে আবার হারিয়ে প্রথমবারের মতো অ্যাওয়ে ম্যাচেও জয় তুলে নেয় তারা। দীর্ঘদিন ইউরোপের দুর্বলতম দল হিসেবে পরিচিত থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু ইতিবাচক ফল পেয়েছে সান মারিনো।
বিশ্বকাপ ও ইউরো বাছাইপর্বে নিয়মিত অংশ নেওয়ার কারণে ইউরোপের বিশ্বসেরা দলগুলোর বিপক্ষে খেলার বিশাল অভিজ্ঞতা রয়েছে সান মারিনোর। যদিও সেই ম্যাচগুলোর বেশিরভাগেই তাদের হারতে হয়েছে, তবু আন্তর্জাতিক ফুটবলের কঠিন ও উচ্চমানের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে খেলার এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আজ মাঠের লড়াইয়ে সান মারিনোর বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ দল এই সফরে বেশ কিছু প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছে। দীর্ঘ ভ্রমণের ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই খেলোয়াড়রা অনুশীলনের জন্য সুযোগ পেয়েছেন মাত্র দুটি সেশন। ২৬ জন ফুটবলারকে নিয়ে এই সংক্ষিপ্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হয়েছে কোচকে। উল্লেখ্য, এই ম্যাচ দিয়েই বাংলাদেশ দলের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে, যার প্রধান কোচের দায়িত্বে রয়েছেন টমাস ডুলি।
ঐতিহাসিক এই ম্যাচটি ঘিরে ইউরোপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। সান মারিনোর সেরাভালের স্টেডিয়ামে বাংলাদেশি সমর্থকদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার বড় একটি অংশ খেলা দেখতে ইতিমধ্যে ইতালি থেকে এসে পৌঁছেছেন।
দর্শক চাহিদার কারণে ছোট আকারের এই স্টেডিয়ামটির সব টিকিট ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ বিক্রি হয়ে গেছে। বিদেশের মাটিতে ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশ দলের দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন দেশের কোটি ফুটবলপ্রেমীও। দেশের ফুটবল সমর্থকরা ম্যাচটি সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন বাংলাদেশের একমাত্র ক্রীড়াভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল টি-স্পোর্টস এর পর্দায়। ইউরোপের বুকে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ কেমন পারফর্ম করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।












































