
‘আমি ট্রিনিটি, তোমার শুভাকাঙ্খী। বলতে পারো তোমার গার্ডিয়ান এঞ্জেল।’
গার্ডিয়ান এঞ্জেল! অবাক হয় মালিহা।
তাকায় এদিক-ওদিক, এমনকি ওপরে-নিচে সব দিকে তাকায় সে। ভাগ্যিস মালিহার স্বামী মামুন বাসায় নেই। এমনিতেই তাকে পাগল বলে খোঁটা দেয়, তার মধ্যে এসব কী? এই ঘটনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় ট্রিনিটি আর ড. মালিহার গল্পের শুরু।
বিজ্ঞানী ড. মালিহা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিউটি ফার্মার গবেষক। তার গবেষণার বিষয় জিন এডিটিং। এক গভীর রাতে সে জিন এডিটিংয়ের মাধ্যমে চুল পড়া সমস্যার সমাধান বের করে ফেলে। কিন্তু এই সমাধান তাকে নিয়ে ফেলে নতুন এক সমস্যার দ্বারপ্রান্তে। গার্ডিয়ান এঞ্জেল- এর বুদ্ধিতে এগিয়ে চলে সেই সমস্যার পথচলা।
গার্ডিয়ান এঞ্জেল ট্রিনিটি খুব কাছের একজন হয়ে তার জীবনে প্রভাব ফেলে। নানা বুদ্ধি বাতলে দেয় বিজ্ঞানী মালিহাকে। তার স্বামী মামুনের বান্ধবী টিফানী নিয়ে তথ্য দিয়ে মনের গহীনে অর্জন করে ফেলে বিশ্বাসযোগ্যতা। এর সঙ্গে দিনযাপনের প্রতিটা ক্ষণে ড.মালিহার ছায়া হিসেবে উপস্থিত হয় ট্রিনিটি। অদৃশ্য থেকে কথোপকথনের মাধ্যমে দিকনির্দেশনা দেয় মালিহাকে।। এই যে ট্রিনিটি-মালিহা কথোপকথন কিংবা সম্পর্ক তা এই দু-জন ছাড়া কেউ জানেন না। মালিহা একাই শুধু ট্রিনিটি কে শুনতে পায়।
অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে বাধ্য হয়ে তাকে সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে যেতে হয়। তারপরেও কণ্ঠস্বরটা যখন তখন কানে কানে কথা বলতেই থাকে। যখন সে একা থাকে কিংবা মানুষের ভীড়েও সে শুনতে পায় ট্রিনিটিকে। তার গার্ডিয়ান এঞ্জেলকে। কিন্তু আসলেই কী অদৃশ্য সেই কণ্ঠ ট্রিনিটি তার গার্ডিয়ান?
এর মধ্যে গভীর এক ষড়যন্ত্রের গন্ধ পায় মালিহা। কেউ আর তাকে বিশ্বাস করে না। একসময় তার নিজের কাছেই নিজেকে মনে হয় পাগল হয়ে যাচ্ছে সে। নতুন আবিষ্কারে কিউটি ফার্মার সঙ্গে লেগে যায় ঝামেলা। অপ্রকৃতস্থ আচরণের জন্য তাকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। সেখানেও মালিহা দেখে এক মরণফাঁদে পা দিয়ে বসে আছে সে। জীবন-মরণ সমস্যা নিয়ে তাই হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায় মালিহা। তাকে হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকে পুলিশ আর ট্রিনিটি নামের অদৃশ্য অ্যাঞ্জেল! পুলিশ আর ট্রিনিটি কী খুঁজে পায় ড. মালিহাকে?
এই প্রশ্নের উত্তর জানতে পড়তে হবে ট্রিনিটি ও ড.মালিহা বইটি। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ দুর্দান্ত থ্রিলার সায়েন্স ফিকশন ট্রিনিটি ও ড.মালিহা লিখেছেন সায়েন্স ফিকশন লেখক মোস্তফা তানিম। লেখক তার জাদুকরি লেখার গুণে ইতিমধ্যে পাঠকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। একটানে পড়ে ফেলার মত চমৎকার এই বইটি প্রকাশ করেছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স।















































