বৃহস্পতিবার । জুন ১১, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক খেলা ১১ জুন ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ন
শেয়ার

বিশ্বজয়ের দৌড়ে সেরা ৮ পরাশক্তি!


FIFA WORLD CUP

ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। এই প্রথমবার রেকর্ডসংখ্যক ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ। ১০৪ ম্যাচের টানটান উত্তেজনা আর দীর্ঘ লড়াই শেষে আগামী ২০ জুলাই জানা যাবে—কার হাতে উঠছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই ট্রফি। দলের সংখ্যা বাড়ায় বড় দলগুলোর জন্য সমীকরণ এবার বেশ জটিল।

বিশেষ করে তথাকথিত ‘ছোট’ দলগুলোকে নিয়ে আলাদা করে স্টাডি করতে হচ্ছে পরাশক্তিদের। পরিসংখ্যান, বেটিং মার্কেট এবং ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বিশ্বকাপে কোনো একক ফেভারিট নেই। তবে শিরোপার প্রধান দাবিদার হিসেবে কয়েকটি দল অন্যদের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে।

আর্জেন্টিনা
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই এবার মাঠে নামছে আলবিসেলেস্তেরা। ২০২২ সালে কাতার জয়ের পর লিওনেল স্কালোনির দল এখনও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম অপ্রতিরোধ্য শক্তি। ৩৯ বছর বয়সী মহাতারকা লিওনেল মেসির সম্ভবত এটিই শেষ বিশ্বকাপ। ফলে প্রিয় অধিনায়ককে একটি রাজকীয় বিদায় উপহার দিতে মরিয়া পুরো দল। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের দুর্দান্ত মিশ্রণ এবং গত চার বছরের ধারাবাহিক সাফল্য আর্জেন্টিনাকে ফেভারিটের তালিকায় ওপরের দিকেই রাখছে। তবে ইতিহাস বলে, বিশ্বমঞ্চে শিরোপা ধরে রাখা সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি।

ব্রাজিল
২০০২ সালের পর দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বকাপের ট্রফি অধরা সেলেকাওদের। এবার সেই দীর্ঘ খরা কাটাতে ব্রাজিলের ডাগআউটে বসেছেন অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তি। কোনো ব্যক্তিকেন্দিক নির্ভরতা নয়, বরং ১১ জনের দলীয় শক্তির ওপর ভর করে বাজিমাত করতে চান তিনি। আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও এনড্রিকের মতো তরুণ তুর্কিদের সাথে নেইমার, কাসেমিরো ও অ্যালিসনের অভিজ্ঞতা ব্রাজিল দলকে দিচ্ছে বাড়তি গভীরতা। আমেরিকা মহাদেশে খেলা হওয়া এবং ফুটবল ঐতিহ্যের কারণে বিশেষজ্ঞরা ব্রাজিলকে অন্যতম প্রধান দাবিদার ভাবছেন।

ফ্রান্স
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় টুর্নামেন্টে ফ্রান্সের মতো ধারাবাহিক দল খুব কমই দেখা গেছে। ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়নরা ২০২২ সালের ফাইনালে টাইব্রেকারে হেরে রানার্স-আপ হয়। দিদিয়ের দেশঁর এই দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো স্কোয়াড ডেপথ। প্রতিটি পজিশনেই তাদের বিশ্বমানের বিকল্প রয়েছে। গত বিশ্বকাপের মূল স্কোয়াডের অধিকাংশ খেলোয়াড় এখনও দলে থাকায় বোঝাপড়া ও অভিজ্ঞতার বিচারে ফ্রান্সকে উপেক্ষা করা অসম্ভব।

স্পেন
২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন তাদের ঐতিহ্যবাহী পজিশনভিত্তিক ফুটবলের সাথে এবার যোগ করেছে তীব্র গতি ও আক্রমণাত্মক কৌশল। ২০২৪ সালের ইউরো জয় এবং নেশনস লিগের সাফল্য তরুণদের নিয়ে গড়া এই দলটির আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্কোয়াডে রিয়াল মাদ্রিদের কোনো ফুটবলার না থাকায় কোচকে নিয়ে ফুটবল মহলে কিছু মৃদু সমালোচনাও রয়েছে।

পর্তুগাল
পর্তুগাল এখনও বিশ্বকাপের স্বাদ পায়নি, তবে অনেকের মতে এবারই তাদের সেরা সুযোগ। মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগের অসাধারণ গভীরতা নিয়ে নেশনস লিগ জয়ী দলটি এবার বেশ আত্মবিশ্বাসী। এই বিশ্বকাপ পর্তুগালের কাছে ভীষণ আবেগের; একদিকে প্রয়াত দিয়াগো জোতার স্মৃতিকে সম্মান জানানো, অন্যদিকে ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শেষ সুযোগ। ক্যারিয়ারের একমাত্র অধরা ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরতে রোনালদো নিশ্চিতভাবেই তাঁর সবটুকু উজাড় করে দেবেন।

ইংল্যান্ড
১৯৬৬ সালের পর দীর্ঘ ৬০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে মরিয়া থ্রি লায়নসরা। নতুন কোচ টমাস টুচেল দলে এনেছেন আমূল পরিবর্তন। হ্যারি মাগুয়ের, ফিল ফোডেন, ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড এবং কোল পামারের মতো তারকাদের বাদ দিয়ে তিনি মূলত দলের ভারসাম্যকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এই সাহসী সিদ্ধান্ত সফল হলে টুচেল পাবেন রাজকীয় তকমা, আর ব্যর্থ হলে তৈরি হবে তীব্র সমালোচনা।

জার্মানি
চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের সেরা ছন্দে না থাকলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে জার্মানি সবসময়ই এক ভয়ঙ্কর প্রতিপক্ষ। শৃঙ্খলা, মানসিক দৃঢ়তা এবং টুর্নামেন্ট ফুটবলের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাদের বড় শক্তি। নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের নিয়ে পুনর্গঠিত এই দলটি যেকোনো মুহূর্তে টুর্নামেন্টের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

নেদারল্যান্ডস
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রভাবশালী দল হয়েও তিনবারের রানার্স-আপ নেদারল্যান্ডসের ট্রফি ক্যাবিনেট এখনও শূন্য। লাইমলাইটে ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার মতো আলোচনা না থাকলেও, ডাচদের অনন্য ফুটবল দর্শন এবং কৌশলগত পরিচয় সবসময়ই প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ের কারণ। সঠিক সময়ে ছন্দ খুঁজে পেলে এবার বড় কোনো চমক দেখিয়ে দিতে পারে তারা।

ভিজুয়াল স্টোরি