শুক্রবার । জুন ১২, ২০২৬
স্পোর্টস ডেস্ক খেলা ১২ জুন ২০২৬, ১০:০৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

চেক রিপাবলিককে ২-১ গোলে হারাল দক্ষিণ কোরিয়া


south--korea-c-republic

ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই এক রোমাঞ্চকর ও নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে এশিয়ার পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়া। মেক্সিকোর জাপোপানের অ্যাক্রন স্টেডিয়ামে (এস্তাদিও গুয়াদালাহারা) অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘এ’-এর ম্যাচে চেক রিপাবলিকের বিপক্ষে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের দুর্দান্ত জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তারা।

প্রথমার্ধে দুই দলের রক্ষণাত্মক ও কৌশলী ফুটবলের কারণে ম্যাচ গোলশূন্য থাকলেও, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মাঠের চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। দুই দলের আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে ম্যাচটি রূপ নেয় চরম উত্তেজনায়।

ম্যাচের প্রথমার্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার অধিনায়ক সন হিউং-মিন একটি দারুণ সুযোগ পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হলে গোলশূন্যভাবেই বিরতিতে যায় দুদল। তবে বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৫৯তম মিনিটে প্রথম ডেডলক ভাঙে ইউরোপের দেশ চেক রিপাবলিক। দলটির ডিফেন্ডার লাদিস্লাভ ক্রেচসি বক্সে আসা একটি দূরপাল্লার থ্রো-ইন থেকে চমৎকার এক হেডে বল দক্ষিণ কোরিয়ার জালে জড়িয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন।

পিছিয়ে পড়ার পর গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে কোরিয়ানরা। মাত্র ৯ মিনিটের মাথায়, অর্থাৎ ৬৭তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় তারা। একটি দুর্দান্ত আক্রমণ থেকে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে বক্সের ভেতর ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে যান ফেইনুর্ড মিডফিল্ডার হুয়াং ইন-বিওম। ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে দলকে ১-১ গোলের সমতায় ফেরান তিনি।

ম্যাচ সমতায় আসার পর মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় দক্ষিণ কোরিয়া। এরপর কোরিয়ান কোচ হংক মিউং-বো কৌশলগত পরিবর্তন এনে মাঠে নামান ফরোয়ার্ড ওহ হিউন-গ্যুকে। কোচের সেই আস্থার প্রতিদান দিতে একদমই সময় নেননি এই সুপার সাব। ম্যাচের ৮০তম মিনিটে বক্সের ভেতর চমৎকার এক পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ঠাণ্ডা মাথার এক কোণাকুণি শটে চেক গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ওহ হিউন-গ্যু। তাঁর এই দুর্দান্ত গোলেই দক্ষিণ কোরিয়া ২-১ ব্যবধানে লিড নেয়।

খেলার বাকি সময়ে এবং ইনজুরি টাইমে চেক রিপাবলিক সমতায় ফেরার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করলেও দক্ষিণ কোরিয়ার সুসংগঠিত রক্ষণভাগ তাদের সব আক্রমণ প্রতিহত করে দেয়। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের এই মহামূল্যবান জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়ে এশিয়ার এই প্রতিনিধিত্বকারী দলটি। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে প্রথম ম্যাচেই পিছিয়ে পড়ে এমন লড়াকু জয় কোরিয়ানদের গ্রুপ পর্বে এবং আগামী ম্যাচগুলোর জন্য অনেক বড় মানসিক বুস্ট হিসেবে কাজ করবে।