সোমবার । জুন ১৫, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক দেশজুড়ে ১৪ জুন ২০২৬, ৭:০২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

নাটোরে প্রবাসীর বাড়ি যেন ‘এক টুকরো জার্মানি’


natore-news

সংগৃহীত ছবি

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ার কালিকাপুর মহল্লা দিয়ে যাওয়ার সময় যে কারও চোখ আটকে যাবে একটি বিশেষ বাড়িতে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে এটি যেন বাংলাদেশের বুকে এক টুকরো জার্মানি! বাড়ির দেয়াল, টিনের চাল, এমনকি আঙিনার দুই শতাধিক গাছও রাঙানো হয়েছে জার্মান পতাকার কালো, লাল ও হলুদ রঙে।

বর্তমানে জার্মানির ডর্টমুন্ডে কর্মরত বাংলাদেশি নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর সাগর কুলেন্তুনুরের পৈতৃক ভিটা এখন ফুটবল উন্মাদনা আর প্রবাসীর আবেগের এক অনন্য দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে।

এক একর আয়তনের এই বাড়ির আঙিনা পুরোপুরি সাজানো হয়েছে প্রিয় দল জার্মানির প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে। তবে শুধু জার্মানির প্রতি ভালোবাসাই নয়, এই প্রবাসী তরুণের বুকেও রয়েছে প্রগাঢ় দেশপ্রেম। আর তাই বাড়ির চারপাশ জুড়ে জার্মানির ৪০টি পতাকার পাশাপাশি পরম যত্নে স্থাপন করা হয়েছে বাংলাদেশের ১০টি জাতীয় পতাকা। দূর পরবাসে থাকলেও দেশের সম্মানকে সবার ওপরে স্থান দিতে বাংলাদেশের পতাকাগুলো জার্মান পতাকার চেয়েও অন্তত এক ফুট উঁচুতে স্থাপন করেছেন এই প্রবাসী।

বর্তমানে জার্মানির একটি হাসপাতালে নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে কর্মরত আছেন সাগর কুলেন্তুনুর। হাজার মাইল দূরে অবস্থান করলেও ফুটবলকে ঘিরে নিজের জন্মভিটাকে সাজানোর স্বপ্ন ভুলে যাননি তিনি। সাগরের মা কানন গমেজ জানান, জার্মানিতে ডিউটির ফাঁকে ফাঁকে প্রতিনিয়ত ভিডিও কলে যুক্ত হয়ে সাগর তাঁর স্ত্রী এমলিনাকে পুরো সাজসজ্জার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। মূলত বিয়ের সময় প্রথম বাড়িটি সাজানো হয়েছিল, আর এবার ফুটবল উন্মাদনাকে ঘিরে সেটিকে আরও বড় পরিসরে নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে।

প্রবাসীর এই বাড়ির ভেতরে তৈরি করা হয়েছে একটি মিনি ফুটবল মাঠের আদল। সেখানে স্থাপন করা হয়েছে জার্মান জাতীয় দলের তারকা খেলোয়াড়দের প্রতিকৃতি। মাঠের ঠিক মাঝখানে তৈরি করা হয়েছে সোনালী বিশ্বকাপ ট্রফির একটি নজরকাড়া প্রতিকৃতি, যেখানে খোদাই করা হয়েছে জার্মানির চারবার বিশ্বজয়ের স্মরণীয় সালগুলো।

ব্যতিক্রমী এই আয়োজন দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন। স্থানীয় আর্জেন্টিনার সমর্থক শিক্ষার্থী অরলীন ডি কস্তা জানান, অন্য দলের সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও প্রবাসীর এই নান্দনিক ও সৃজনশীল সাজসজ্জা তাঁকে মুগ্ধ করেছে এবং তিনি এখানে এসে ছবিও তুলেছেন।

স্থানীয় সামাজিক ব্যক্তিত্ব মাহমুদুল হাসান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়িটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যা পুরো এলাকায় দারুণ এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেছে। হাজার মাইল দূরে থেকেও নিজের জন্মভিটা ও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাকে শিল্পরূপে তুলে ধরা সাগর কুলেন্তুনুরের এই ‘লিটল জার্মানি’ এখন নাটোরের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।