
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরুর প্রাক্কালে নতুন সরঞ্জামবিষয়ক বিধিমালার কারণে নিজেদের অফিসিয়াল জার্সিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে হচ্ছে মিসর ও হাইতিকে। ফিফার নতুন নির্দেশনার ফলে একদিকে মিসর হারাচ্ছে তাদের ঐতিহ্যের প্রতীক সাতটি তারা, অন্যদিকে হাইতিকে বাদ দিতে হচ্ছে স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মারক একটি ঐতিহাসিক নকশা।
আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল মিসর দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের জার্সিতে সাতবারের শিরোপা জয়ের স্মারক হিসেবে সাতটি তারা ব্যবহার করে আসছে। তবে বিশ্বকাপের জন্য প্রণীত নতুন নিয়মে ফিফা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, শুধুমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তারকা চিহ্ন জার্সিতে রাখা যাবে। আঞ্চলিক বা মহাদেশীয় প্রতিযোগিতার সাফল্য বোঝাতে কোনো তারা ব্যবহার করা যাবে না। ফলে বিশ্বকাপে অংশ নিতে গিয়ে মিসরকে তাদের ঐতিহ্যবাহী সাত তারা সরিয়ে ফেলতে হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, দলের জার্সির পেছনে থাকা খেলোয়াড়দের নম্বরেও পরিবর্তন আনতে বলা হয়েছে। আগে সোনালি রঙে নম্বর ব্যবহার করলেও সম্প্রচার ও মাঠে নম্বর স্পষ্টভাবে শনাক্ত করার সুবিধার জন্য ফিফা সেগুলো সাদা রঙে পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছে।
একই ধরনের বিধিনিষেধের মুখে পড়েছে ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশ হাইতিও। দীর্ঘ ৫২ বছর পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা পাওয়া দলটি তাদের জার্সিতে ১৮০৩ সালের ঐতিহাসিক ভার্টিয়ার্স যুদ্ধের একটি শিল্পচিত্র এবং জাতীয় পতাকার প্রতীক যুক্ত করেছিল। এই যুদ্ধই ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে হাইতির স্বাধীনতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।

হাইতি জাতীয় ফুটবল দল।
তবে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী খেলোয়াড়দের জার্সিতে কোনো রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত বার্তা কিংবা প্রতীকী ছবি ব্যবহার করা যাবে না। সংস্থাটি হাইতির ওই নকশাকে রাজনৈতিক বার্তার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করায় দলটিকে শেষ পর্যন্ত সেই চিত্র জার্সি থেকে সরিয়ে ফেলতে হয়েছে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার যুক্তিতে ফিফার এই সিদ্ধান্ত দুটি দেশের ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে ঐতিহ্য ও ইতিহাসের প্রতীকগুলো সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে তুমুল বিতর্ক।












































