সোমবার । জুন ১৫, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক ওয়ার্ল্ডকাপ গোল গ্রাফ ১৪ জুন ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ন
শেয়ার

ব্যাকহামের ফ্যাশন আর রোনালদোর ফিটনেস সেরা: আরশ খান


অভিনেতা আরশ খান

বিনোদন জগতের গ্ল্যামারাস তারকা হলেও খেলার মাঠে আরশ খান আর পাঁচজন সাধারণ ফুটবলপ্রেমীর মতোই ভীষণ আবেগপ্রবণ। সাধারণ দর্শকদের মতোই প্রিয় দলের জয়ে উল্লাস আর পরাজয়ে হতাশ হন তিনি। সম্প্রতি গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে আড্ডা হলো জনপ্রিয় এই অভিনেতার সঙ্গে। আড্ডায় নিজের ফুটবলপ্রেম, প্রিয় দল, সর্বকালের সেরা তারকা এবং ফুটবল নিয়ে নিজের নানা রোমাঞ্চকর ভাবনার কথা জানিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সোহানুর রহমান সোহাগ

বিশ্বকাপে আপনার প্রিয় দল কোনটি?
ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা কম-বেশি সবারই থাকে, আর আমার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়। আমি বিশ্বকাপে মনেপ্রাণে পর্তুগালকে সাপোর্ট করি। দলটির খেলার নান্দনিক ধরন এবং বর্তমান ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা কিংবদন্তি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর উপস্থিতি আমাকে সবসময়ই এই দলের প্রতি ভীষণভাবে টানে। পর্তুগালের প্রতিটি ম্যাচ আমার কাছে এক অন্যরকম রোমাঞ্চ নিয়ে আসে।

এবারের বিশ্বকাপের মাঠের সমীকরণ বিবেচনা করলে কোন দলকে সবচেয়ে শক্তিশালী মনে হচ্ছে?
ফুটবল খেলায় যেকোনো মুহূর্তে সমীকরণ বদলে যেতে পারে। তবে বর্তমান দলগুলোর পারফরম্যান্স, স্কোয়াডের গভীরতা এবং মাঠের কৌশল বিবেচনা করলে আমার মনে হয় এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ দল হচ্ছে স্পেন ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই দুটি দলই যেকোনো প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

আপনার মন কী বলে, এবার বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটা কার ঘরে যাবে অর্থাৎ চ্যাম্পিয়ন কে হবে?
কাগজের কলমে বা মাঠের শক্তিতে স্পেন ও আর্জেন্টিনা এগিয়ে থাকলেও, একজন ভক্ত হিসেবে আমার মন তো অন্য কথা বলে! আমি মনেপ্রাণে চাই, এবার সব সমীকরণ উল্টে দিয়ে পর্তুগাল বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হোক। প্রিয় দলের হাতে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই ট্রফিটা দেখার চেয়ে বড় আনন্দ আমার কাছে আর কিছুই হতে পারে না। আর পর্তুগাল বিশ্বকাপ জিততে পারলে সেটি রোনালদোর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারকে পূর্ণতা দেবে।

ফুটবল ইতিহাসে তো অনেক লিজেন্ড এসেছেন, আপনার নিজের কাছে সর্বকালের প্রিয় ফুটবলার কে?
আমার কাছে সর্বকালের সেরা এবং সবচেয়ে প্রিয় ফুটবলার হলেন ব্রাজিলের রোনালদিনহো। তার পায়ের অবিশ্বাস্য জাদু, ড্রিবলিং আর মাঠে সবসময় হাসিমুখে ফুটবল খেলার সেই চিরচেনা ধরনটাই ছিল একদম আলাদা। তার খেলা দেখাটা ছিল চোখের শান্তি।

যদি কখনো সুযোগ পান তাহলে কোন ফুটবলারের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করতে চাইবেন? এবং দেখা হলে তাকে কী প্রশ্ন করতেন?
এমন সুযোগ পেলে আমি একসঙ্গে দুজনের সঙ্গে দেখা করতে চাইতাম। একজন হলেন ডেভিড ব্যাকহাম এবং অন্যজন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ফ্যাশন আইকন ব্যাকহামের সামনে দাঁড়িয়ে আমি জিজ্ঞেস করতাম ‘আপনি এত বছর ধরে এত সুন্দর ও হ্যান্ডসাম কীভাবে আছেন?’ আর ফিটনেসের রাজা রোনালদোকে প্রশ্ন করতাম ‘এই বয়সেও আপনি মাঠে এবং মাঠের বাইরে এতটা এনার্জিক কীভাবে থাকেন? আপনার এই অফুরন্ত শক্তির রহস্যটা কী?’

খেলা দেখার সময় আপনি কি একজন সাধারণ দর্শকের মতো কখনো কখনো আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন?
সত্যি বলতে, খেলা দেখতে বসার পর আমি পুরোপুরি একজন সাধারণ দর্শক হয়ে যাই। তখন আর আমার মাথায় থাকে না যে আমি একজন অভিনেতা বা পরিচিত কেউ। তখন চারপাশের সবকিছু ভুলে শুধু খেলাটা মন থেকে উপভোগ করি। দলের ভালো-মন্দ পারফরম্যান্সে আর দশজন সাধারণ মানুষের মতোই চিৎকার করি, রাগ করি এবং ভীষণ রকম আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি।

ধরা যাক, একদিনের জন্য কোনো বিশ্বকাপ দলের কোচ হওয়ার সুযোগ পেলেন। কোন দলের দায়িত্ব নিতেন?
এমন রূপকথার মতো সুযোগ আসলে আমি এক সেকেন্ডও না ভেবে অবশ্যই পর্তুগাল দলের কোচের দায়িত্ব নিতেন চাইতাম। যদিও আমি ফুটবল কোচিংয়ের কায়দাকানুন বা টেকনিক্যাল স্ট্র্যাটেজির কিছুই জানি না, তবুও ডাগআউটে একদম প্রথম সারিতে বসে প্রিয় খেলোয়াড়দের এত কাছ থেকে খেলা দেখার এবং তাদের নির্দেশনা দেওয়ার এই লোভ সামলানো আমার পক্ষে অসম্ভব!

বাংলা টেলিগ্রাফ স্পোর্টস- বিটিএস