
জোড়া গোল করেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ছবি: ফিফা
ডালাসের স্টেডিয়ামে ফুটবলপ্রেমীরা উপভোগ করলেন এক রুদ্ধশ্বাস গোল উৎসব। বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে প্রথমার্ধে ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে ২-২ গোলে সমতায় থাকলেও, দ্বিতীয়ার্ধে রীতিমতো দাপট দেখিয়েছে ইংল্যান্ড।
শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে টমাস টুখেলের শিষ্যরা। থ্রি লায়ন্সদের এই দুর্দান্ত জয়ের নায়ক অধিনায়ক হ্যারি কেইন, যিনি ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন। অন্য দুটি গোল এসেছে জুড বেলিংহ্যাম ও মার্কাস রাশফোর্ডের পা থেকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে লড়াই জমে ওঠে। নবম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নেন হ্যারি কেইন। রাইসের কর্নার থেকে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে মদরিচ বক্সে মাদুয়েকেকে ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। কেইনের প্রথম শট ক্রোয়েশিয়ান কিপার লিভাকোভিচ ঠেকিয়ে দিলেও, নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে পেনাল্টি পুনরায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। দ্বিতীয় সুযোগে আর ভুল করেননি ইংলিশ অধিনায়ক। তবে ৩৬ মিনিটে দুর্দান্ত এক শটে ক্রোয়েশিয়াকে ১-১ গোলে সমতায় ফেরান মার্টিন বাতুরিনা।
সমতায় ফেরার পর ম্যাচের উত্তেজনা আরও বাড়ে। ৪২ মিনিটে রাইসের আউটসুইং কর্নার থেকে চমৎকার হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ইংল্যান্ডকে আবার এগিয়ে নেন হ্যারি কেইন (২-১)। কিন্তু ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভুলে প্রথমার্ধের একদম শেষ মুহূর্তে (৪৫ মিনিটে) আবার সমতায় ফেরে ক্রোয়েশিয়া। পেরিসিচের হেড থেকে বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় দারুণ এক ভলিতে ইংলিশ গোলরক্ষক পিকফোর্ডকে পরাস্ত করেন পিটার মুসা। ফলে ২-২ গোলের সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় ইংল্যান্ড। ৪৭ মিনিটে অ্যান্ডারসনের পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পেনাল্টি বক্সে ঢুকে পড়েন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা জুড বেলিংহ্যাম। নিখুঁত এক শটে বল জালের নিচের বাঁ কোণে পাঠিয়ে স্কোরলাইন ৩-২ করেন তিনি। এর পরের মিনিটেও বেলিংহ্যামের ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া একটি জোরালো শট কোনোমতে ঠেকিয়ে দেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক। পিছিয়ে পড়ে ক্রোয়েশিয়া কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে উঠলে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে টুখেলের দল।
ম্যাচের শেষ দিকে ক্রোয়েশিয়ার ফেরার সব আশা শেষ করে দেন মার্কাস রাশফোর্ড। ৮৫ মিনিটে বুকায়ো সাকার চমৎকার পাস থেকে বল পেয়ে বক্সে থাকা ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করেন রাশফোর্ড। এরপর ঠান্ডা মাথায় পোস্টের নিচের ডান কোণ দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দলের ৪-২ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করেন এই ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধের নাটকীয়তা শেষে দ্বিতীয় হাফে ইংল্যান্ডের এমন দাপুটে ফুটবল টুর্নামেন্টে তাদের শিরোপার দাবিকে আরও জোরালো করল।













































