
অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে না; বরং ভবিষ্যতে শ্রমিকের ঘাটতি তৈরি করবে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। বুধবার ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত প্রযুক্তি সম্মেলন ‘ভিভাটেক’-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এমন মতামত ব্যক্ত করেন।
বেজোস বলেন, অনেকেই মনে করেন এআই একসময় মানুষকে অপ্রয়োজনীয় করে তুলবে। তবে তিনি এ ধারণার সঙ্গে একমত নন।
তিনি বলেন, ‘অনেক মানুষ, এমনকি অনেক বুদ্ধিমান মানুষও মনে করেন এআই মানুষের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেবে। আমি এ দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করি। আমার বিশ্বাস, এআই বরং শ্রমিক সংকট তৈরি করবে।’
তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এআই প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগের পাশাপাশি হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের অনেক কোম্পানি বলছে, এআই ব্যবহারের ফলে কাজের দক্ষতা বেড়েছে এবং কম জনবল দিয়েই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।
কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘চ্যালেঞ্জার, গ্রে অ্যান্ড ক্রিসমাস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ৯৭ হাজারের বেশি চাকরি ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়, যার প্রায় ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে এআইকে একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে চলতি মাসে প্রকাশিত রয়টার্সের এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক মানুষ আশঙ্কা করছেন যে এআই তাদের বা তাদের পরিবারের কারও চাকরির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
জেন-জি প্রজন্মের নতুন চাকরিপ্রার্থীদের থেকে শুরু করে দক্ষিণ কোরিয়ার গাড়ি শিল্পের শ্রমিক ইউনিয়ন এবং হলিউডের চিত্রনাট্যকারদের মধ্যেও এআই ব্যবহারের বিরুদ্ধে উদ্বেগ ও প্রতিরোধ দেখা যাচ্ছে।
তবে বেজোসের মতে, মানুষের করার মতো কাজের কোনো শেষ নেই। বর্তমানে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক কাজ করা সম্ভব হয় না, আর এআই সেই বাধাগুলো দূর করতে সাহায্য করবে।
উল্লেখ্য, অ্যামাজনও গত বছরের শেষ দিক থেকে প্রায় ৩০ হাজার করপোরেট পদ কমিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যান্ডি জ্যাসি আগেই বলেছিলেন, এআই নির্ভর স্বয়ংক্রিয়তা বাড়ার ফলে কিছু করপোরেট চাকরি হারিয়ে যেতে পারে।















































