cosmetics-ad

মেয়ের ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে প্রবাসী বাবার আর্তনাদ

qatar

পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে প্রথমে সৌদি আরব ৮ বছর প্রবাসী জীবন শেষ করে। এরপর কাতার প্রবাস জীবন শুরু। বর্তমানে কাতারে একটি কোম্পানিতে চার বছর ধরে কর্মরত। বিয়ের পর ভালোই কাটছিল তাদের জীবন।

সুখের সংসারে হানা দিয়েছে মানুষ নামের এক শকুন। তার আঘাতে লন্ডভন্ড সুখের সংসার। ২০১৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামের কাতার প্রবাসীর মেয়েকে (৪) একই এলাকার ডা. আলী আশ্রাফের ছেলে মেহেরাজ হোসেন তুষার (২০) একটি নিমার্ণাধীন ভবনে ডেকে নিয়ে ধর্ষণে করে। পরে গলা টিপে হত্যার পর মরদেহ ওই ভবনের একটি রুমে সিমেন্টের বস্তার নিচে পুঁতে রাখে।

পরদিন স্থানীয়রা সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। ২০১৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়। ওই শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার পরদিন তার জানাজায় অংশ নেয় ঘাতক তুষার। মরদেহ উদ্ধারের সময়ও ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিল সে।

২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি ডিবির একটি টিম এলাকায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তে ঘাতক তুষারের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়ে ডিবির ওসি নাসির উদ্দিন মৃধার নেতৃত্বে ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সহিদার রহমানের একটি টিম ঘাতক তুষারকে আটক করে।

২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি কুমিল্লার আমলি আদালতের বিচারক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইরফানুল হকের আদালতে ১৬৪ ধারায় ঘটনার সাথে সে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ডিবির ওসি নাসির উদ্দিন মৃধা। গ্রেফতার ঘাতক মেহেরাজ হোসেন তুষার বর্তমানে কারাগারে।

কাতার প্রবাসীর শিশুসন্তানের বাবা জানান, প্রবাস জীবন অনেক কষ্টের মধ্যে যাচ্ছে একমাত্র কন্যাকে হারিয়ে। ঘাতক নরপশু চার বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করে। ইদানিং ধর্ষণকারী তুষারের মামলা তুলে নিতে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে সন্ত্রাসীরা। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার করে ঘাতক ধর্ষক তুষারের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, কখনও ভাবিনি আমাদের সমাজে মানুষের মতো পোশাকধারী এত অসভ্য জানোয়ার বসবাস করে। যদি আগে জানতাম তাহলে আমার একমাত্র কলিজার টুকরা মেয়েকে কখনও ঘর থেকে বের হতে দিতাম না। মানুষ কতটা নির্দয় নির্মম হলে একটা নিষ্পাপ শিশুকে এভাবে ধর্ষণ করে হত্যা করে মারতে পারে। কি অপরাধ ছিল আমার অবুঝ শিশু কলিজার টুকরার।