ইরান-ইসরাইল সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় পাল্টা হামলার পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব সরাসরি দিয়েছিলেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ। খবর তেহরান টাইমসের।
কালিবাফ বলেন, “ইসরাইলের হামলার তিন-চার ঘণ্টার মধ্যেই আয়াতুল্লাহ খামেনি নতুন কমান্ডার নিয়োগ দেন, নিজেই তাদের ডেকে পাঠিয়ে নির্দেশনা দেন এবং সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠান। তাঁর পরিচালিত ‘সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর’ হামলার কারণেই মাত্র ১২ দিনের মধ্যে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আয়াতুল্লাহ খামেনি ঠিক সেই ভূমিকাই নিয়েছেন, যেমনটি তিনি নিয়েছিলেন ১৯৮০-এর দশকে ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময়।”
হামলার প্রতিক্রিয়া ও ক্ষয়ক্ষতি
ইসরাইলের বিমান হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন খামেনি। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “ইসরাইলকে তাদের অপরাধের জন্য মূল্য দিতে হবে এবং তারা দুর্দশার মুখে পড়বে।”
কালিবাফ দাবি করেন, যুদ্ধের শেষদিকে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নির্ভুলতার হার ছিল ৯০ শতাংশের বেশি। ফলে ইসরাইলের বহু সামরিক ও বিমান প্রতিরক্ষা স্থাপনা অচল হয়ে পড়ে। তাঁর ভাষায়, “আমরা ইসরাইলের প্রতিরক্ষা কাঠামো প্রায় অকার্যকর করে দিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, ইসরাইলে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা ৫০০-এর কম নয়, যদিও দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী নিহত ২৯ জন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ
পার্লামেন্ট স্পিকার অভিযোগ করেন, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা চলাকালে ইরানকে আশ্বস্ত করেছিল যে, আলোচনা চলাকালীন কোনো হামলা হবে না। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে গত ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানে হামলা চালায়। ওইদিন মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনা টার্গেট করা হয়।
এর আগেই, ১৩ জুন ভোরে ইসরাইল ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। প্রথম ধাক্কাতেই দেশটির কয়েকজন শীর্ষ জেনারেল নিহত হন। বিশ্লেষকদের মতে, এসব হত্যাকাণ্ড ছিল ইরানকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধা দেওয়ার কৌশল।
সংঘাতের পেছনে ব্যর্থতা, না কূটনীতি?
কালিবাফ বলেন, “ইসরাইলের সাম্প্রতিক আগ্রাসন থেমেছে তাদের কূটনৈতিক সদিচ্ছুর কারণে নয়, বরং তাদের সামরিক ব্যর্থতার কারণেই।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “স্থল ও আকাশে ইরানের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণই ইসরাইলের পিছু হটার প্রধান কারণ।”




































