
রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যুদ্ধপ্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর উদ্ধার অভিযান চলাকালে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটিকে “অনভিপ্রেত” উল্লেখ করে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
মঙ্গলবার আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দুর্ঘটনার দিন উদ্ধার কাজ পরিচালনার সময় ভিড় নিয়ন্ত্রণে সেনাসদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে উৎসুক জনতার ভুল বোঝাবুঝি হয়, যা এক পর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির জন্ম দেয়। এতে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ উঠে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্ঘটনার পর উত্তপ্ত পরিস্থিতি
২১ জুলাই দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত শিশুসহ ৩১ জন নিহত এবং ১৬৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনার পর বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক, জনতা এবং মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সেখানে ছুটে যান। উদ্ধার অভিযান চলাকালে তাদের অনেকের সঙ্গে সেনাসদস্যদের বাদানুবাদ হয়, আর অভিযোগ ওঠে—শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা করা হয়েছে।
ছাত্রদের বিক্ষোভ ও ছয় দফা দাবি
মঙ্গলবার সকাল থেকেই মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস সংলগ্ন গোলচত্বরে দিনভর বিক্ষোভ করেন। তারা ছয় দফা দাবি পেশ করেন, যার মধ্যে অন্যতম ছিল—ঘটনার জন্য দায়ী সেনাসদস্যদের জনসমক্ষে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া।
বিক্ষোভ চলাকালে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে শিক্ষার্থীদের দাবিকে “যৌক্তিক” বলে উল্লেখ করা হয় এবং সেনা কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল মাইলস্টোন পরিদর্শনে গিয়ে ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সকল দাবি “মেনে নেওয়ার আশ্বাস” দেন। তিনি বলেন,
“ভিড় নিয়ন্ত্রণের সময় সেনাসদস্যদের দ্বারা শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। বিষয়টি সেনাবাহিনীকে জানানো হয়েছে এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।”
আইএসপিআরের বিবরণ
আইএসপিআর জানায়, দুর্ঘটনার পরপরই কাছাকাছি একটি সেনা ক্যাম্প থেকে সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠাতে চেষ্টা করা হয়।
তবে ব্যাপক উৎসুক জনতার ভিড়ে উদ্ধার কার্যক্রম বারবার বিঘ্নিত হয়। বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও অনেকে ঘটনাস্থল ছাড়েননি, ফলে আহতদের দ্রুত সরিয়ে নিতে বিলম্ব ঘটে—ফলে প্রাণহানির ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া ১৪ জন সেনাসদস্য ধোঁয়া ও শারীরিক ক্লান্তিজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে বর্তমানে সিএমএইচে চিকিৎসাধীন বলে জানানো হয়।
সেনাবাহিনীর অবস্থান: পেশাদারিত্বে অটল, তদন্তে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
আইএসপিআর স্পষ্টভাবে জানায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও জনগণের পাশে থেকে সে অঙ্গীকার বজায় রাখবে। একই সঙ্গে তারা আশ্বস্ত করে, “ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই ঘটনায় সেনাবাহিনী, সরকার, এবং জনগণের পারস্পরিক আস্থার জায়গায় যে ফাটল দেখা দিয়েছে, তা নিরসনে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তই এখন প্রধান প্রত্যাশা।




































