বৃহস্পতিবার । মার্চ ২৬, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ২৩ জুলাই ২০২৫, ৮:২৮ অপরাহ্ন
শেয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কিছুটা কমবে: অর্থ উপদেষ্টা


Salehuddin

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। ফাইল ছবি

বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক কিছুটা কমবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী সপ্তাহে, অর্থাৎ ১ আগস্টের আগেই তিনি বাণিজ্য উপদেষ্টাসহ একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন।

বুধবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, দেড় লাখ টন ইউরিয়া ও টিএসপিসহ বিভিন্ন ধরনের সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এলএনজি আমদানির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টন গম আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা আমদানি উৎসে বৈচিত্র্য আনতে চাই। রাশিয়া বা ইউক্রেনের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় প্রায়ই। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক বিষয়ে আলোচনা চলছে, এ সময় তাদের কাছ থেকে আমদানি দর কষাকষিতে সহায়ক হতে পারে।”

দাম বেশি হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দাম কিছুটা বেশি হলেও গমের মান ভালো। প্রোটিনের পরিমাণ কিছুটা বেশি, ইনপিউরিটিও কম। তাই গুণগত মান বিবেচনায় এটা সুবিধাজনক।

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ার আর মাত্র আট দিন বাকি—এ অবস্থায় আলোচনার অগ্রগতি জানতে চাইলে সালেহউদ্দিন বলেন, “আমরা আগামী সপ্তাহেই যাচ্ছি। আশা করছি, যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা হলেও শুল্ক কমাবে। কারণ আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি মাত্র ৬.৫ বিলিয়ন ডলারের মতো।”

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে লবিস্ট নিয়োগের দাবি উঠেছে—এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটা দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে। তবে এখন যেহেতু দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, সেখানে লবিস্ট কতটা কার্যকর হবে, বলা কঠিন। ব্যবসায়ীদের যুক্ত হওয়ার দাবিও তোলা হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে তাদের আলোচনায় প্রবেশের সুযোগ নেই, দর কষাকষি তো দূরের কথা।”

অর্থ উপদেষ্টা আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস চেম্বারের সঙ্গে তাঁর ইতিমধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং তারা বাংলাদেশের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে। তিনি বলেন, “শেভরন, এক্সিলারেট এনার্জি ও মেটলাইফের বকেয়া পরিশোধের বিষয়টি আমাদের ভাবমূর্তি উন্নত করেছে। সার্বিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ভালো।”