
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ ফের রক্তক্ষয়ী রূপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সকালে সীমান্তে সামরিক বাহিনীর গোলাগুলিতে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে থাই কর্তৃপক্ষ। নিহতদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে শতাব্দীপ্রাচীন বিরোধ নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দেশটির সুরিন, উবোন রাতচাথানি ও শ্রীসাকেত প্রদেশের বাসিন্দা রয়েছে। এদের মধ্যে আট বছরের এক শিশু ও ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরও রয়েছে। সংঘর্ষে একজন থাই সেনা কর্মকর্তাও প্রাণ হারিয়েছেন। তবে কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে এখনো কোনো হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি।
দুই দেশই একে অপরকে সংঘর্ষের জন্য দায়ী করছে। থাই সেনাবাহিনীর দাবি, কম্বোডিয়া তাদের সীমান্তে রকেট হামলা চালিয়েছে। পাল্টা অভিযোগে কম্বোডিয়া জানিয়েছে, থাইল্যান্ড বিমান হামলা চালিয়ে তাদের সামরিক অবস্থানে আঘাত হেনেছে।
এ ধরনের অভিযোগের পাল্টাপাল্টিতে সীমান্ত পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছে। দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে “অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ” ও “সীমান্ত লঙ্ঘনের” অভিযোগ তুলেছে।
উত্তেজনার মধ্যে থাইল্যান্ড তাদের কম্বোডিয়া সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। একইসঙ্গে, কম্বোডিয়া জানিয়েছে, তারা থাইল্যান্ডের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের মাত্রা কমিয়ে দিয়েছে।
নাগরিকদের নিরাপত্তায় দুই দেশই সীমান্ত এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ হাজার বেসামরিক নাগরিককে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সীমান্তবর্তী থাইল্যান্ডের বুরিরাম প্রদেশের বান দান এলাকার বাসিন্দা সুতিয়ান ফিওচান ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেন, “সংঘর্ষ সত্যিই ভয়াবহ। গোলার শব্দে ঘর কাঁপছে। আমরা এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছি।”
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্ত বিরোধের ইতিহাস বহু পুরনো। বিশেষ করে প্রে ভিহিয়ার মন্দিরসংলগ্ন এলাকা নিয়ে ১৯০০ সাল থেকেই বিরোধ চলে আসছে। দুই দেশের মধ্যে মাঝে মধ্যেই সীমান্ত উত্তেজনা দেখা দেয়, তবে এবারের সহিংসতা তা ছাড়িয়ে পূর্ণ সামরিক সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দুই দেশের মধ্যে দ্রুত কূটনৈতিক সংলাপ না হলে সংঘাত আরও জটিল আকার নিতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন এ অঞ্চলের দিকেই।
সূত্র: বিবিসি




































