মঙ্গলবার । মার্চ ২৪, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২৭ জুলাই ২০২৫, ১১:২৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

গ্রিসে ভয়াবহ দাবানল, সরানো হচ্ছে বাসিন্দাদের


গ্রিসে ভয়াবহ দাবানল, সরানো হচ্ছে বাসিন্দাদের

ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে গ্রিস।পাঁচটি বড় দাবানলের সঙ্গে লড়াই করছে দেশটির জরুরি সেবা বিভাগ। এর মধ্যে রাজধানী অ্যাথেন্স থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার উত্তরে আফিদনেস অঞ্চলে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। যেখানে অনেক বাসিন্দাকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।  দাবানলের ধোঁয়া অ্যাথেন্স শহর পর্যন্ত পৌঁছেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে অতিরিক্ত সহযোগিতা চেয়েছে গ্রিস সরকার। চরম তাপদাহ পরিস্থিতির মধ্যেই দাবানলের এই সংকট তৈরি হয়েছে। রবিবার (২৭ জুলাই) তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

গ্রিসের জলবায়ু সংকট ও নাগরিক সুরক্ষা মন্ত্রী ইয়ানিস কেফালোয়ানিস বলেন, দমকলকর্মীরা আহত হয়েছেন, মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়েছে, ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে এবং বনাঞ্চল ধ্বংস হয়েছে।

তীব্র বাতাস ও প্রচণ্ড গরম দাবানলকে আরও ছড়িয়ে পড়তে সহায়তা করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিভিল প্রোটেকশন মেকানিজমের আওতায় ছয়টি অতিরিক্ত ফায়ারফাইটিং এয়ারক্রাফট চেয়েছে গ্রিস। অ্যাটিকা অঞ্চলে (যেখানে অ্যাথেন্স অবস্থিত), আফিদনেসে শুরু হওয়া আগুন দ্রোসোপিগি, ক্রিওনেরি ও আগিওস স্টেফানোস পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে, ফলে বহু মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরতে হয়েছে।

প্রধান আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনও বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে ধোঁয়া ও আগুন দেখা যাচ্ছে। ২০০ জনের বেশি ফায়ারফাইটার, হেলিকপ্টার ও পানিবাহী বিমান আগুন নেভাতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। এভিয়া দ্বীপে দ্বিতীয় একটি দাবানল পিসোনা এলাকা থেকে ছড়িয়ে পড়ে আফ্রাতির দিকে এগিয়ে গেছে। আগুনের কারণে পাইলন ও বিদ্যুৎ লাইন পুড়ে যাওয়ায় অনেক গ্রামে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ছয়জন দমকলকর্মীকে ইতোমধ্যেই দগ্ধ ও শ্বাসজনিত সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ১১৫ জন ফায়ারফাইটার এখনো আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।

দিরফিওন-মেসাপিওন শহরের মেয়র গিয়র্গোস পসাথাস বলেন, ধ্বংসযজ্ঞের পরিমাণ অগণনীয়। কিথিরা দ্বীপে তৃতীয় আরেকটি দাবানল দ্বীপটির বিশাল অংশ দখল করে ফেলেছে। বহু বসতিস্থল খালি করে ফেলা হয়েছে। লিম্নিওনাস সৈকত থেকে ১৩৯ জনকে উদ্ধার করে কাপসালি বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মেসিনিয়ার ট্রিফিলিয়ার পলিথেয়া এলাকায় চতুর্থ দাবানলটি শনিবার সকালের দিকে শুরু হয় এবং পরে তা আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। গ্রীসের ১১২ নম্বর জরুরি সিস্টেম থেকে পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন সতর্কতা পাঠানো হয়েছে, যাতে মানুষজনকে বিভিন্ন গ্রাম থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ক্রিট দ্বীপের খানিয়া অঞ্চলের টেমেনিয়ায় পঞ্চম দাবানলটি দুটি আলাদা জায়গা থেকে শুরু হয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং কমপক্ষে দুটি ঘরবাড়ি ধ্বংস করে দেয়। এছাড়াও দেশের আরও অনেক অঞ্চলে দাবানলের আশঙ্কা রয়েছে— যেমন: আয়োনিয়ান দ্বীপপুঞ্জ, পশ্চিম গ্রিস, পেলোপনেস, মধ্য গ্রিস, অ্যাটিকা, এপিরাস, পশ্চিম ম্যাসেডোনিয়া (ফ্লোরিনা, কাস্টোরিয়া, কোজানি), পূর্ব ম্যাসেডোনিয়া ও থ্রেস (এভরোস), থেসালিয়ার (ম্যাগনেসিয়া, লারিসা, ত্রিকালা), দক্ষিণ এজিয়ান দ্বীপপুঞ্জ (রোডস) এবং ক্রিট।