বুধবার । মার্চ ২৫, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:৩১ অপরাহ্ন
শেয়ার

মিথ্যা বলেছিলেন টিউলিপ: দ্য টাইমস


Tulip Siddiquiব্রিটিশ লেবার এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একটি দুর্নীতির মামলা বিচারাধীন। একই সঙ্গে নতুন করে উঠে এসেছে তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) গ্রহণের তথ্য। যদিও টিউলিপ বরাবরই এ ধরনের পরিচয় পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাজ্যের দ্য টাইমস ও বাংলাদেশের একটি গণমাধ্যমের যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০১ সালে লন্ডনে টিউলিপ সিদ্দিক বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়েছিলেন। তখন তার বয়স ছিল ১৯ বছর। এরপর ২০১১ সালে তিনি একটি বাংলাদেশি এনআইডিও পান। উভয় নথিতেই তার স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে ঢাকার ধানমণ্ডির বাড়ির উল্লেখ আছে, যা তার খালা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মালিকানাধীন।

পরিচয় অস্বীকার ও প্রতিক্রিয়া: দ্য টাইমস জানায়, টিউলিপ একাধিকবার বলেছেন তিনি কোনো বাংলাদেশি পাসপোর্ট বা এনআইডি পাননি। গত আগস্টে তার আইনজীবীও একই দাবি করেন। তবে নতুন নথি প্রকাশের পর টিউলিপ ও লেবার পার্টি একে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রপাগান্ডা’ আখ্যা দিয়ে নথিগুলোকে জাল বলে দাবি করেছে।

নাগরিকত্ব প্রসঙ্গ: বাংলাদেশি আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশি বাবা-মায়ের সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পান। টিউলিপ ব্রিটেনে জন্মগ্রহণ করলেও তার মা-বাবা বাংলাদেশি হওয়ায় তিনি দ্বৈত নাগরিকত্বের আওতায় পড়েন। তবে প্রকাশ্যে তিনি বারবার নিজেকে শুধু ব্রিটিশ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

দুর্নীতি মামলা: বর্তমানে বাংলাদেশে টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতি মামলা চলছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি শেখ হাসিনার প্রভাব খাটিয়ে পরিবারের জন্য জমি বরাদ্দ নেন। তবে তিনি এই অভিযোগকে রাজনৈতিক নিপীড়ন বলে দাবি করেছেন। দুদক ও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তাদের কাছে টিউলিপের পাসপোর্ট ও এনআইডির রেকর্ড রয়েছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: ২০১১ সালে বাংলাদেশি নথি ইস্যুর সময় টিউলিপকে ঢাকার বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা যায়। এমনকি শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতিসংঘ অধিবেশন ও মস্কো সফরেও ছিলেন তিনি।

ব্রিটেনে পদত্যাগ: ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে টিউলিপ যুক্তরাজ্যের অ্যান্টি-করাপশন মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরিবারের রাজনৈতিক যোগসূত্র লেবার সরকারের ভাবমূর্তির জন্য ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ানোয় তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।

বিতর্ক অব্যাহত: টিউলিপের মুখপাত্র দাবি করেছেন, বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। তবে দ্য টাইমসের নতুন অনুসন্ধান প্রকাশের পর তার নাগরিকত্ব ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।