শুক্রবার । জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ১১ অক্টোবর ২০২৫, ৯:৪৩ অপরাহ্ন
শেয়ার

এলপিজির দাম ১ হাজার টাকার মধ্যে হওয়া উচিত: জ্বালানি উপদেষ্টা


Fouzul-kabir

দেশের স্বল্পমেয়াদি জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণ করা এখন সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন, বর্তমানে সিলিন্ডারের বাজারমূল্য ১২০০ টাকার বেশি হওয়ায় গৃহস্থালি ও শিল্প খাতের ব্যবহারকারীরা যথাযথ সুবিধা পাচ্ছেন না। অথচ এই দাম ১ হাজার টাকার মধ্যে হওয়া উচিত।

শনিবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত “বাংলাদেশে এলপিজি: অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তা” শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে দৈনিক বণিক বার্তা।

উপদেষ্টা জানান, বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রি বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালানো হবে। তিনি বলেন, “১২০০ টাকার এলপিজি সিলিন্ডার ১৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে- এর দায় নিতে হবে ব্যবসায়ীদের। দায়-দায়িত্বহীন ব্যবসা চলতে পারে না। অতিরিক্ত মুনাফা করে বিদেশে সম্পদ পাচারের মানসিকতা থেকে বের হতে হবে।”

ফাওজুল অভিযোগ করেন, এক শ্রেণির রাজনীতিবিদ ও তাদের সহযোগী ব্যবসায়ীরা জ্বালানির সংকট তৈরি করেছে। “বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সময় জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত না করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গ্যাস খাতে অসংখ্য অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়েছে- এসব অপকর্ম রাজনীতিকদের হাতেই হয়েছে,” বলেন তিনি।

উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানির (বাপেক্স) জন্য নতুন রিগ কেনা হচ্ছে। তবে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি এখনো সন্তোষজনক নয়। এজন্য বাধ্য হয়ে চড়া দামের এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “এলএনজি রূপান্তরের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন এফএসআরইউ আনার চেষ্টা চলছে। এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া।”

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলর (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, “শুধু রাজনীতিকদের দায়ী করলে হবে না। দেশের গ্যাস ফুরিয়ে যাচ্ছে- এই ঘাটতি পূরণের পরিকল্পনা এখন থেকেই নিতে হবে।” তিনি জ্বালানি সরবরাহ বাড়িয়ে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেন।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, আন্তর্জাতিক বাজার ও ডলারের দর অনুযায়ী প্রতি মাসে এলপিজির দাম সমন্বয় করা হয় যাতে ভোক্তারা কম দামে পণ্য পেতে পারেন।

মূল প্রবন্ধে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশর উপাচার্য ম. তামিম বলেন, দেশে বর্তমানে দৈনিক ১৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস ঘাটতি রয়েছে। বছরে ১৬ লাখ টন এলপিজি মজুতের সক্ষমতা থাকলেও শিল্প খাতের সংকট মোকাবিলায় এর ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। তিনি জানান, “ডিজেল চালিত বয়লারকে এলপিজিতে রূপান্তর করলে খরচ ৩৫-৪০ শতাংশ কমানো সম্ভব।”

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সর মহাপরিচালক মোহাম্মদ জাহেদ কামাল বলেন, চলতি বছরে গ্যাস খাতে ১,৫০০টির বেশি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, যার মধ্যে ৫৮০টি এলপিজি-সংক্রান্ত দুর্ঘটনা। তিনি বলেন, “প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোর করতে হবে।”

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশর সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, “এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। সরকারের কাছ থেকে আমরা নীতি সহায়তা চাই। সবসময় ব্যবসায়ীদের ‘লুটেরা’ বলা হলে এ খাতে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে।”

ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী বলেন, “উপদেষ্টা ১ হাজার টাকায় এলপিজি বিক্রির কথা বলেছেন। যদি ৭ শতাংশ মুনাফা দিয়ে ওই দামে বিক্রি করা সম্ভব হয়, তাহলে তিনি করে দেখান।”

কনক্লেভে সরকারি নীতিনির্ধারক, গবেষক, উদ্যোক্তা ও উন্নয়ন সহযোগীরা এলপিজি খাতের ভবিষ্যৎ নীতিমালা, নিরাপত্তা মানদণ্ড, বাজার কাঠামো ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।