
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়র বিজ্ঞান অনুষদ প্রাঙ্গণে সোমবার দুপুরে নিহত জোবায়েদ হোসাইনের জানাজায় অশ্রুসিক্ত পরিবেশ তৈরি হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন এ জানাজায়।
জানাজার আগে হৃদয়বিদারক বক্তব্য দেন জোবায়েদের বাবা মোবারক হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে পড়াশোনা করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছিলাম। আশা ছিল ছেলে অনেক বড় হবে, চাকরি করবে- দেখে আমি গর্বিত হবো। কিন্তু আজ আমার ছেলেকে লাশ হিসেবে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি। এই কষ্ট আমি কীভাবে বলবো?’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘আমার ৫৮ বছরের জীবনের সব অর্জন শেষ হয়ে গেল। আমার প্রাণের জোবায়েদ আর নেই। আমার কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই, শুধু হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই। সরকারের কাছে এই দাবি জানাই।’
জোবায়েদ ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়র ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলর (ছাত্রদল) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক সদস্য। রোববার পুরান ঢাকার নুরবক্স লেনের আরমানিটোলায় একটি বাসার সিঁড়ি থেকে রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। টিউশন করতে ওই বাসায় নিয়মিত যেতেন তিনি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশর (ডিএমপি) লালবাগ জোনের উপকমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামি জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে তাদের আটক করা হয়েছে। এখনই পরিচয় প্রকাশ করা হবে না। মঙ্গলবার (আগামীকাল) এ নিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।’
জানাজা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রইছ উদ্দিন বলেন, আগামী দুই দিন শোক দিবস ও শোক র্যালির আয়োজন করা হবে। তিনি আরও জানান, ‘১০ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রেজাউল করিম বলেন, ‘প্রকৃত দোষী গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত আমরা পাশে থাকবো। পুলিশকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হবে।’
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘জোবায়েদের বড় ভাই সৈকত ৪৯তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, কিন্তু জোবায়েদ সে খবর জানতে পারল না। প্রকৃত হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে—কোনো ফাঁকফোকর রাখা যাবে না।’








































