শনিবার । মার্চ ২১, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক বিনোদন ৫ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৩১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

শৈশবের ভয়ংকর পরিণতির সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা ‘ওসিডি’: জয়া


OCD-Joya

বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের দর্শকের কাছে জয়া আহসান এখন আর কেবল জনপ্রিয় অভিনেত্রী নন, তিনি সময়ের জটিল ও গভীর চরিত্রগুলোর এক শক্তিশালী প্রতিচ্ছবি। ২০২৫ সালজুড়ে মুক্তি পাওয়া তাঁর সিনেমাগুলো সেই অবস্থান আরও পাকাপোক্ত করেছে। ‘তাণ্ডব’, ‘উৎসব’, ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’, ‘ফেরেশতে’, ‘জয়া আর শারমিন’, ‘ডিয়ার মা’- প্রতিটি ছবিতেই ভিন্ন ভিন্ন রূপে, ভিন্ন ভিন্ন মানসিকতায় ধরা দিয়েছেন তিনি। গেল বছরজুড়ে মুক্তি পাওয়া এসব সিনেমায় জয়ার অভিনয় আলাদাভাবে নজর কাড়ে সমালোচক ও দর্শকদের।

নতুন বছরের শুরুতেই সেই ধারাবাহিকতায় যুক্ত হচ্ছে জয়ার আরও এক চ্যালেঞ্জিং ও ভিন্নধর্মী কাজ। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে সৌকর্য ঘোষাল পরিচালিত সিনেমা ‘ওসিডি’। ছবিটি এমন কিছু ক্ষতের গল্প বলে, যা সময় কখনোই সারাতে পারে না। শৈশবে পাওয়া আঘাত স্মৃতির গভীরে জমে থাকে- নীরব, অদৃশ্য, অথচ ভয়ংকরভাবে সক্রিয়। সমাজ যেসব যন্ত্রণা ভুলে যেতে শেখায়, সেগুলোই একসময় মানুষের আচরণ, সিদ্ধান্ত এবং পরিণতি নির্ধারণ করে দেয়। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই নির্মিত হয়েছে ‘ওসিডি’।

সিনেমাটিতে জয়া আহসান অভিনয় করেছেন শ্বেতা চরিত্রে। পেশায় তিনি একজন চিকিৎসক- বাইরে থেকে সংযত, গোছানো এবং প্রতিষ্ঠিত একজন নারী। কিন্তু এই স্বাভাবিকতার আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে এক ভয়াবহ অতীত। শৈশবের এক তিক্ত অভিজ্ঞতা শ্বেতার মন থেকে কখনো মুছে যায়নি; বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা রূপ নিয়েছে গভীর মানসিক ব্যাধিতে। সেই অতীত হঠাৎ সামনে চলে আসতেই শ্বেতার জীবনে নেমে আসে নাটকীয় ও ভয়ংকর মোড়। একের পর এক চরম সিদ্ধান্ত তাঁকে ঠেলে দেয় সহিংসতার পথে, যেখানে প্রতিটি হত্যাকাণ্ড আসলে তাঁর ভেতরে জমে থাকা যন্ত্রণারই বহিঃপ্রকাশ।

ছবিটি প্রসঙ্গে জয়া আহসান বলেন, ‘ওসিডি’ শুধু একটি সিনেমা নয়; এটি শৈশবের অবহেলিত যন্ত্রণা, সমাজের নীরবতা এবং সেই নীরবতা থেকে জন্ম নেওয়া ভয়ংকর পরিণতির সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার এক অভিজ্ঞতা। তাঁর বিশ্বাস, ছবিটি সব শ্রেণির দর্শকের কাছেই গভীরভাবে নাড়া দেবে।

পরিচালক সৌকর্য ঘোষালের ভাষায়, ‘ওসিডি’ মূলত একটি সাইকোলজিক্যাল ড্রামা। তবে শুধুই থ্রিলার হয়ে ওঠা এর লক্ষ্য নয়; এটি এক ধরনের প্রতিবাদও। ভারতীয় গণমাধ্যমকে তিনি জানান, সমাজে অসংখ্য শিশু আছে, যারা নির্যাতনের শিকার হলেও ভয়, অবিশ্বাস কিংবা পারিবারিক নীরবতার কারণে মুখ খুলতে পারে না। ফলে অপরাধীরা সহজেই পার পেয়ে যায়, আর সেই শিশুরা সারাজীবন বয়ে বেড়ায় এক অসমাপ্ত আর্তনাদ।

সৌকর্যের মতে, আমাদের সমাজ আজও অপরাধীর বদলে ভুক্তভোগীকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। শিশুর যন্ত্রণাকে ‘পবিত্রতা হারানো’র মতো বিপজ্জনক ধারণার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ফলে লিঙ্গ সমতা নিয়ে যত কথাই বলা হোক না কেন, শিশু অধিকার ও যৌন নির্যাতনের প্রশ্নে সমাজ এখনো দ্বিধা ও ভণ্ডামির গণ্ডিতেই আটকে আছে।

২০২১ সালে ‘ওসিডি’র শুটিং শুরু হয়। ২০২২ সালে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়। এরপর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে সিনেমাটি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত এই চলচ্চিত্র।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ওসিডি’র পোস্টার প্রকাশ করেন জয়া আহসান। পোস্টারে তাঁকে দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে- নেই কোনো তারকাসুলভ বাহুল্য, বরং চরিত্রের ভেতরের ভারটাই সেখানে মুখ্য। পোস্টারের সঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘মনের কোণের সব দীনতা মলিনতা ধুইয়ে দাও।’ এই একটি লাইনেই যেন ধরা পড়ে ছবির আবহ ও গভীরতা।

উল্লেখ্য, ‘ওসিডি’ জয়া আহসান ও সৌকর্য ঘোষালের দ্বিতীয় যৌথ কাজ। এর আগে ‘ভূতপরী’ ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন তাঁরা। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই সিনেমায় সেই শিল্পী-পরিচালক সম্পর্ক আরও গভীর ও পরিণত রূপ পেয়েছে। জয়ার পাশাপাশি ‘ওসিডি’তে অভিনয় করেছেন কৌশিক সেন, অনসূয়া মজুমদার, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ আরও অনেকে।