
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঢালিউডে সিনেমা নির্মাণের তোড়জোড় শুরু হলেও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে বদলে যাচ্ছে দেশি সিনেমার শুটিং লোকেশন। দীর্ঘ সময় ধরে ঢাকাই সিনেমার বড় বাজেটের কাজের জন্য ভারতের বিভিন্ন শহর প্রথম পছন্দ থাকলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই জায়গা দখল করে নিচ্ছে শ্রীলঙ্কা।
বিশেষ করে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েন, ভিসা পেতে দীর্ঘসূত্রতা এবং দুই দেশের শিল্পী-কলাকুশলীদের মধ্যে কাজ করা নিয়ে তৈরি হওয়া এক ধরনের অস্বস্তিবোধ এই পরিবর্তনের মূল কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
ইতিমধ্যেই মেহেদী হাসান পরিচালিত ‘রাক্ষস’ সিনেমার শুটিংয়ের জন্য ২৮ সদস্যের একটি দল শ্রীলঙ্কায় অবস্থান করছে। পরিচালক জানিয়েছেন, ভারতের ভিসা পাওয়ার অনিশ্চয়তা এবং লোকেশনের সহজলভ্যতার কথা চিন্তা করেই তাঁরা এই দ্বীপরাষ্ট্রটিকে বেছে নিয়েছেন। যেখানে অভিনেতা সিয়াম আহমেদের বিপরীতে অভিনয় করছেন কলকাতার সুস্মিতা চ্যাটার্জি।
অন্যদিকে, মেগাস্টার শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ সিনেমার ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে এই ছবির বড় একটি অংশের শুটিং হায়দরাবাদ ও কলকাতায় হওয়ার কথা থাকলেও কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতায় শেষ পর্যন্ত টিম শ্রীলঙ্কাকে চূড়ান্ত করেছে। ঈদের আগে কাজ শেষ করার তাগিদে এবং ভিসা জটিলতায় সময় নষ্ট না করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুধু এই দুটি সিনেমাই নয়, আরও অন্তত তিনটি সিনেমার পরিচালক ও প্রযোজক ভারত থেকে মুখ ফিরিয়ে শ্রীলঙ্কার দিকে ঝুঁকছেন। এমনকি বড় বাজেটের মিউজিক ভিডিওর ক্ষেত্রেও নির্মাতারা এখন ভারতকে বাদ দিয়ে শ্রীলঙ্কাকে নিরাপদ এবং সুবিধাজনক মনে করছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভারতের লোকেশন বৈচিত্র্যময় হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে কাজ করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ও সময়সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঢাকাই সিনেমার আন্তর্জাতিক শুটিং স্পট হিসেবে শ্রীলঙ্কাই হয়ে উঠছে মূল ভরসা।
তবে নির্মাতাদের আশা, ভবিষ্যতে পরিবেশ অনুকূলে এলে আবারো দুই দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময়ের পথ সুগম হবে।









































