
বলিউডে পরিপূর্ণতার প্রতীক হিসেবে যিনি পরিচিত, সেই ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খানের ব্যক্তিজীবন কিন্তু সব সময় এতটা নিখুঁত ছিল না। বিশেষ করে ভাই ফয়সাল খানের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলেছে নানা বিতর্ক, অভিযোগ ও গুঞ্জন। এবার দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে সেই প্রসঙ্গেই প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান জানালেন ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’।
এই পারিবারিক টানাপোড়েনের সূত্রপাত ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ছবি ‘মেলা’ থেকে। আমির খানের ক্যারিয়ারে ছবিটি যেমন বড় ধাক্কা ছিল, তেমনি এই ছবির মাধ্যমেই বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার ছোট ভাই ফয়সাল খানের। তবে সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই দুই ভাইয়ের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হতে থাকে। ফয়সালের অভিযোগ ছিল, শুটিং চলাকালে তাকে নানা ধরনের চাপের মধ্যে রাখা হতো, এমনকি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও তিনি শঙ্কিত ছিলেন।
পরবর্তীতে ফয়সাল খান একাধিক সাক্ষাৎকারে আরও গুরুতর দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে মানসিকভাবে অসুস্থ প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং এক সময় জোরপূর্বক ঘরে আটকে রেখে ওষুধ খাওয়ানো হয়। তিনি বলেন, সেদিন যদি পালিয়ে যেতে না পারতেন, তাহলে তার জীবন সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে আটকে যেতে পারত। এসব ঘটনার পর তিনি পরিবারের সম্পত্তি থেকেও নিজেকে সরিয়ে নেন বলে জানান।
ভাইয়ের এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে এবার আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানালেন আমির খান। তিনি বলেন, “আমি আর কীই বা করতে পারি? এটাকে আমি আমার জীবনের বাস্তবতা হিসেবেই মেনে নিয়েছি। বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে লড়াই করা সহজ, কিন্তু নিজের পরিবারের সঙ্গে সংঘাত সবচেয়ে কঠিন।”
কোনো ধরনের পাল্টা অভিযোগে না গিয়ে আমির খান বরং ইতিবাচক বার্তাই দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ফয়সাল যদি আবার অভিনয়ে ফিরতে চান, তাহলে তিনি নিজেই তার সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। তার কথায়, “ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ যদি ফয়সালকে সুযোগ না দেয়, আমি নিজে তার পাশে দাঁড়াব।”
দীর্ঘদিনের এই পারিবারিক দ্বন্দ্বে আমির খানের এমন অবস্থান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিতর্ক নয়, বরং সম্পর্কের সেতুবন্ধন গড়ার বার্তাই যেন এবার দিতে চাইছেন বলিউডের এই প্রভাবশালী তারকা।











































