
ফাইল ছবি
ইসরায়েল আরও সাতজন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। মুক্তির পর আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) তত্ত্বাবধানে তাদের দক্ষিণ গাজার কেরেম আবু সালেম সীমান্ত দিয়ে গাজা উপত্যকায় প্রবেশ করানো হয়। পরে মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় অবস্থিত আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে নেওয়া হয় মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের।
আনাদোলু এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, গাজায় পৌঁছানোর পর বন্দিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘদিন আটক থাকার ফলে তাদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে চিকিৎসকরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এই মুক্তি এমন এক সময় হয়েছে, যখন গাজা উপত্যকায় মানবিক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। চলমান সংঘাতের কারণে হাসপাতালগুলোতে ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় সেবার ঘাটতি রয়েছে। একই সঙ্গে আহত ও অসুস্থ রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে।
ফিলিস্তিনি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইসরায়েলি কারাগারগুলোতে ৯ হাজার ৩০০–এর বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ৩ হাজার ৩৮৫ জনকে কোনো অভিযোগ কিংবা বিচার ছাড়াই তথাকথিত প্রশাসনিক আটক হিসেবে রাখা হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশেষ করে গাজার ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন বেড়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে অনাহার, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌন সহিংসতা এবং চিকিৎসাসহ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা।
উল্লেখ্য, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে ১০ অক্টোবর একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়। চুক্তির প্রথম ধাপে যুদ্ধবিরতি এবং গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর দাবি, এই সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সীমিত ছিল, ফলে গাজার বাসিন্দারা এখনও দুর্ভিক্ষ ও মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে রয়েছেন।














































