
ছবি: সংগৃহীত
পরিবেশ রক্ষায় অভূতপূর্ব কঠোর অবস্থান নিয়েছে মালয়েশিয়া প্রশাসন। যত্রতত্র ময়লা ফেলার অভিযোগে দেশটিতে এই প্রথমবারের মতো কোনো ব্যক্তিকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে। জোহর বাহরুর একটি রাস্তায় সিগারেটের অবশিষ্টাংশ বা ফিল্টার ফেলার দায়ে এক বাংলাদেশি যুবক ও একজন ইন্দোনেশীয় নারীর বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেছে দেশটির সেশন কোর্ট।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) জোহর বাহরু সেশন কোর্টে ২৮ বছর বয়সী বাংলাদেশি কারখানা কর্মী মো. সুলতানকে হাজির করা হয়। আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জানুয়ারি রাত ১টা ২৭ মিনিটে স্তুলাং লাউটের জালান ইব্রাহিম সুলতান এলাকায় রাস্তার ওপর সিগারেটের অবশিষ্টাংশ ফেলেছিলেন তিনি। দেশটির ‘কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জননিষ্কাশন কর্পোরেশন’ নির্দিষ্ট ডাস্টবিন ব্যবহার না করে জনসমক্ষে বর্জ্য ফেলার অভিযোগে সুলতানের বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ নেয়।
আদালতে শুনানির সময় সুলতান বিচারিক কার্যক্রম সঠিকভাবে বোঝার জন্য একজন দোভাষীর আবেদন করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আগামী ২৮ জানুয়ারি পুনরায় শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জননিষ্কাশন কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খালিদ মোহামেদ জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জননিষ্কাশন আইন ২০০৭ (আইন ৬৭২)’-এর ধারা ৭৭এ(১) অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ধারায় দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্তকে সর্বোচ্চ ২ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা এবং ১২ ঘণ্টার সমাজসেবামূলক কাজের বিধান রয়েছে।
সরকারি কৌঁসুলি সিটি আদোরা রাহতিমিন শুনানিতে বলেন, পরিবেশ রক্ষায় এই কঠোর পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। এই সাজা অন্যদের জন্য একটি দৃষ্টান্তমূলক শিক্ষা হিসেবে কাজ করবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ যত্রতত্র ময়লা ফেলে পরিবেশের ক্ষতি করার সাহস না পায়।
মালয়েশীয় নগর কর্তৃপক্ষের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের পর দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী কর্মীদের মধ্যে আইন মানার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা আবারও স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে।









































