শনিবার । মার্চ ২১, ২০২৬
স্পোর্টস ডেস্ক খেলা ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:৪৮ অপরাহ্ন
শেয়ার

ভুটানকে ১২-০ গোলে উড়িয়ে বাংলাদেশের দুর্দান্ত সূচনা


women-under-19-team

ছবি: সংগৃহীত

মেয়েদের ফুটবলে বাংলাদেশের দাপটের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকল ২০২৬ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেও। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই নেপালের পোখারা রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে ভুটানকে ১২-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছে লাল-সবুজের মেয়েরা।

বাংলাদেশ-ভুটান ম্যাচ দিয়েই শুরু হয় এবারের অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। ম্যাচে বাংলাদেশের তিন ফুটবলার হ্যাটট্রিক করেন। মোসাম্মৎ মুনকি আক্তার একাই করেন চার গোল। আলপি আক্তার ও শ্রীমতি তৃষ্ণা রানী করেন তিনটি করে গোল। এছাড়া অর্পিতা বিশ্বাস অর্পি ও মামনি চাকমা একটি করে গোল করেন।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ। প্রথম গোলের দেখা পেতে ২৭ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। কর্নার থেকে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করেন মামনি চাকমা। ৪৩ মিনিটে শ্রীমতি তৃষ্ণা রানীর গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বাংলাদেশ।

প্রথমার্ধের শেষভাগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান মোসাম্মৎ মুনকি আক্তার। অতিরিক্ত দ্বিতীয় ও তৃতীয় মিনিটে টানা দুই গোল করে বাংলাদেশকে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক রূপে মাঠে নামে বাংলাদেশের মেয়েরা। ৫৪ মিনিটে তৃষ্ণা রানী করেন দলের পঞ্চম গোল। একের পর এক আক্রমণে ভুটানের রক্ষণভাগ ভেঙে পড়ে। পঞ্চম গোল হজমের পর ভুটান গোলরক্ষক পরিবর্তন করলেও তাতে কোনো লাভ হয়নি।

বাকি সময়জুড়ে আলপি, মুনকি ও সতীর্থদের আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ে ভুটান। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা পাঁচ মিনিটে আলপি আক্তার নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে ভুটানের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন। শেষ পর্যন্ত ১২-০ গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

নারী সাফের বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সাফল্য ঈর্ষণীয়। অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ও ২০—এই তিন স্তরে এখন পর্যন্ত ছয়টি টুর্নামেন্টের মধ্যে পাঁচবারই শিরোপা জিতেছে লাল-সবুজের মেয়েরা। ২০২৪ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়। একই বছর ঢাকায় অনুষ্ঠিত নারী সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টেও শিরোপা জেতে বাংলাদেশ।

চার দলের এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ ২ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে। লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে ৪ ফেব্রুয়ারি প্রতিপক্ষ নেপাল। সেরা দুই দল খেলবে ফাইনাল, যা অনুষ্ঠিত হবে ৬ ফেব্রুয়ারি।