রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

গুলশানে নিজের ফ্ল্যাটে ফিরছেন ড. ইউনূস 


Dr. Younus

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার গুরুদায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করে এবার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে ফিরছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঐতিহাসিক অধ্যায় শেষ করে তিনি এখন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’য় কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটাচ্ছেন। জীবনের এই নতুন সন্ধিক্ষণে বিশ্ববরেণ্য এই ব্যক্তিত্বকে এখন দেখা যাচ্ছে একদম ভিন্ন মেজাজে—রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততা ছাপিয়ে যেখানে প্রাধান্য পাচ্ছে একান্ত পারিবারিক মুহূর্ত।

জানা গেছে, খুব শীঘ্রই তিনি গুলশান-২ এর কূটনৈতিক এলাকায় অবস্থিত তাঁর নিজস্ব বাসভবনে উঠতে যাচ্ছেন। অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের ঠিক উল্টো দিকে অবস্থিত ‘রূপায়ণ সিগনেচার টাওয়ার’-এর ১১ তলার একটি ফ্ল্যাটই হতে যাচ্ছে তাঁর পরবর্তী ঠিকানা। বর্তমানে সেই বাসায় চলছে শেষ মুহূর্তের ধোয়া-মোছা ও রং করার কাজ।

তবে একজন সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানের সম্ভাব্য আগমন ঘিরে সেখানে নেই কোনো বাড়তি আড়ম্বর বা রাজকীয় আয়োজন। এমনকি গুলশানের এই অভিজাত ভবনের সামনে নেই কোনো অতিরিক্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী কিংবা উৎসুক জনতা বা রাজনৈতিক কর্মীদের ভিড়। সবকিছুই চলছে আর দশটা সাধারণ দিনের মতো অত্যন্ত স্বাভাবিক ছন্দে।

সরেজমিনে ভবনটির নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৩ তলা বিশিষ্ট এই ভবনের ১১ তলার পুরো ইউনিটটি ড. ইউনূসের নিজস্ব সম্পদ। দীর্ঘকাল তিনি এখানে বসবাস না করলেও এখন সেটিকে থাকার উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। ভবনের পরিবেশ অত্যন্ত শান্ত ও জনসমাগমমুক্ত, যা তাঁর বর্তমান নিরিবিলি পছন্দের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। যদিও তাঁর ফেরার সঠিক দিনক্ষণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আভাস দিয়েছে যে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ ত্যাগ করতে পারেন।

ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে সরে এসে একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে নিজের চেনা আঙিনায় ফেরার এই প্রস্তুতি ভক্ত ও সাধারণ মানুষের কাছেও বেশ প্রশংসিত হচ্ছে। কোনো প্রটোকলের জাঁকজমক নয়, বরং নিজের অর্জিত বাসস্থানে সাদামাটাভাবে ফিরে আসাই যেন ড. ইউনূসের চিরাচরিত ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন।

যমুনা থেকে গুলশানের এই স্থানান্তর কেবল একটি ঠিকানা বদল নয় বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অধ্যায় শেষে নিভৃত যাপনে ফেরার এক নতুন শুরু।