রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধের ঘোষণা পাকিস্তানের


khaja-m-asif

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। ছবি: এএফপি

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা এম আসিফ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন। পাকিস্তানের সীমান্তে সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে আফগান বাহিনী হামলা চালানোর পর এই ঘোষণা দেন তিনি। খবরটি বিবিসি জানিয়েছে।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) খাজা মোহাম্মদ আসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, “পাকিস্তান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য সরাসরি এবং মিত্র দেশগুলোর মাধ্যমে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন আপনাদের সঙ্গে প্রকাশ্য যুদ্ধ শুরু।”

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান যে কোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব ‘তাৎক্ষণিক ও কার্যকর’ভাবে দেবে। প্রয়োজনে আরও পাল্টা হামলা চালানোর ক্ষমতা পাকিস্তান রাখে এবং তাদের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও সকালে এক এক্স পোস্টে লিখেছেন, “আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিক্রিয়া ব্যাপক ও চূড়ান্ত।” তিনি বলেন, পাকিস্তানকে যেকোনো হুমকি মোকাবিলা করতে দৃঢ়ভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) আফগানিস্তান পাকিস্তানের সীমান্তে সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায়। আফগান কর্মকর্তারা জানিয়েছে, হামলায় কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান ‘অপারেশন গজব লিল হক’ শুরু করে। অভিযানের অংশ হিসেবে পাকিস্তানি বিমান বাহিনী ইতোমধ্যে আফগানিস্তানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিমান হামলায় কমপক্ষে ১৩৩ আফগান সেনা নিহত এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন। পাকিস্তানি পক্ষ দাবি করেছে, আফগানিস্তানের কোনো পোস্ট দখল বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং কোনো পাকিস্তানি সেনা নিহত বা আটক হননি।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, অভিযানে ধ্বংস করা লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে একটি বড় গোলাবারুদ ডিপো, একটি ব্যাটালিয়ন সদরদপ্তর এবং একটি সেক্টর হেডকোয়ার্টার। এছাড়া ৩৬টির বেশি ট্যাংক, কামান ও সাঁজোয়া যানও ধ্বংস হয়েছে।

পাকিস্তানের এই ঘোষণার ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগের মুখে পড়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের সংঘর্ষ শুধু সীমান্তকেন্দ্রিক নয়, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।