বৃহস্পতিবার । মার্চ ৫, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:৩৯ অপরাহ্ন
শেয়ার

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি কে, কেন তিনি হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য?


khameni

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন দফা হামলার পর দেশটির নিরাপত্তা ও নেতৃত্ব কাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শনিবার ইরানের রাজধানী তেহরানে চালানো হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

যেসব স্থানে হামলা হয়েছে
ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলা দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে চালানো হয়েছে, যার মধ্যে রাজধানী তেহরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রয়েছে।

ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, তেহরানের উত্তরের শেমিরান এলাকায় প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে এবং খামেনির বাসভবন সংলগ্ন এলাকায় অন্তত সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, রাজধানীতে খামেনির কার্যালয়ের আশপাশেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

খামেনি কোথায় আছেন
খামেনি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। রয়টার্সের বরাতে একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি তেহরানে নেই এবং তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

খামেনি কে
৮৬ বছর বয়সী ধর্মীয় নেতা আলী খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯৭৯ সালে বিপ্লবের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র–সমর্থিত শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির শাসনের অবসান ঘটে এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে খামেনি সরকারের সব শাখা, সশস্ত্র বাহিনী ও বিচার বিভাগের ওপর চূড়ান্ত কর্তৃত্ব রাখেন। একই সঙ্গে তিনি দেশের ধর্মীয় নেতার ভূমিকাও পালন করেন।

তার শাসনামলে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রকে তিনি ইরানের ‌প্রধান শত্রু বলে উল্লেখ করেছেন এবং ইসরায়েলকেও বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

খামেনির ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো ইরানের শক্তিশালী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর সমর্থন। এসব বাহিনীতে লক্ষাধিক সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে।

খামেনি বরাবরই দাবি করে আসছেন, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থাও ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে—এমন সুস্পষ্ট প্রমাণ পায়নি, যদিও ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের কিছু মহল এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

সর্বশেষ হামলার উদ্দেশ্য
সাম্প্রতিক হামলার পর ট্রাম্প ইরানের নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ‌সম্পূর্ণ ধ্বংস করার হুমকি দেন এবং ইরানের জনগণকে সরকার পরিবর্তনের আহ্বান জানান।

ইরানবিষয়ক বিশ্লেষক ও সাংবাদিকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের এই হামলার অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দুর্বল করে দেওয়া। তবে হামলা কতটা সফল হয়েছে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।