
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে ইরানের ড্রোন আজারবাইজানের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল নাখচিভানে হামলা চালিয়েছে। এতে সংঘাতের নতুন একটি ফ্রন্ট তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
বিবৃতিতে বলা হয়, একটি ড্রোন নাখচিভান স্বায়ত্তশাসিত প্রজাতন্ত্রের একটি বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনে আঘাত হানে। আরেকটি ড্রোন শাকারাবাদ গ্রামের একটি স্কুল ভবনের কাছে গিয়ে পড়ে।

মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ভূখণ্ড থেকে চালানো এই ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’
এ ঘটনায় দুইজন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং বিমানবন্দরে কিছু অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে ইরানের কাছে ‘স্পষ্ট জবাব’ দাবি করেছে আজারবাইজান। একই সঙ্গে দেশটি জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে তারা উপযুক্ত জবাব দেবে।
নাখচিভান অঞ্চলটি ইরান ও তুরস্কের সীমান্তঘেঁষা একটি বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড, যা গত বছর েআর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া একটি শান্তি চুক্তির অংশ ছিল।
ওই চুক্তির আওতায় প্রস্তাবিত একটি স্থলপথ করিডর তৈরি করা হয়, যার নাম দেওয়া হয় ‘ট্রাম্প রুট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যান্ড প্রসপারিটি’। এই করিডরটির মাধ্যমে মূল আজারবাইজান ভূখণ্ডকে নাখচিভানের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে আসছে। তেহরানের আশঙ্কা, এই করিডর তৈরি হলে ইরান আর্মেনিয়া ও দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ হারাতে পারে এবং তাদের সীমান্তের কাছাকাছি বিদেশি শক্তির উপস্থিতি বাড়বে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে আজারবাইজানকে ইসরায়েলের গুপ্তচরবৃত্তির ঘাঁটিতে পরিণত করা হয়েছে। ইরান মনে করে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট দেশটির উত্তর সীমান্ত থেকে ইরানের নিরাপত্তা দুর্বল করার চেষ্টা করছেন।
নাখচিভানে ড্রোন হামলার ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আরও কয়েকটি স্থানে ইরানি হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে জানা গেছে।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দোহার আকাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।
সৌদি আরব বলছে, তাদের আল-জাওফ অঞ্চলের কাছে প্রবেশ করা একটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। আর ওমান অয়েল কোম্পানি জানিয়েছে, তাদের একটি তেল সংরক্ষণ ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, বুধবার ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সিরিয়া ও ইরাক অতিক্রম করে পূর্ব ভূমধ্যসাগরের আকাশে পৌঁছালে ন্যাটের আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটি ধ্বংস করে। তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তুরস্কের দিকে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আল জাজিরা অবলম্বনে











































